Home international হিজাব নিয়ে রচনা লিখে আমেরিকার সেরা হয়েছেন ১১ বছরের শিশু

হিজাব নিয়ে রচনা লিখে আমেরিকার সেরা হয়েছেন ১১ বছরের শিশু

114
0
প্রতীকী ছবি

এগারো বছরের একটি মেয়েকে তার বিশেষ অন্তর্দৃষ্টির জন্য বিশেষ সম্মাননা দিয়েছে মেজরলীগ বেজবল। তাদের অলস্টার গেম অনুষ্ঠানেই শীর্ষ খেলোয়াড়দের সঙ্গে ওই মেয়েটিকেও সম্মাননা দেয়া হয়েছে। আসমা কাউকেপ নামের মুসলমান মেয়েটি সারা দেশে অনুষ্ঠিত একটি রচনা প্রতিযোগিতায় সেরা নির্বাচিত হয়েছে। তার রচনার বিষয় ছিল হিজাব পরার বিরম্বনা।

১১ বছর বয়সে আসমা কাউকেপ বলেছে, তাকে যখন আইসিসের অংশ বলা হয় তখন মনে হয় কেউ যেন তার পেটে ঘুষি মারছে। নিউ ইয়র্কের ভ্যালিস টিমের স এভেনিউ এলিমেন্টরি স্কুলের ফিফথ গ্রেডের ছাত্রী আসমা। সে তার রচনায় মুসলমান হওয়ার কারনে টিটকারি শিকার হওয়ার যন্ত্রণার কথা তুলে ধরেছেন।

আসমা বলেছে, কোন কোন মুসলমান নারী হিজাব পড়ে বাইরে যান। বাচ্চা ছেলে মেয়েরা যাতে তাকে আর কিছু বলতে না পারে, সেজন্য মাঝে মাঝে তার হিজাবটা খুলে ফেলতে ইচ্ছা করে।

আসমার কাছে জানতে চাওয়া হয়, সে কেনো এই বিষয়ে রচনা লিখতে সিদ্ধান্ত নিলো? তার জবাব, অন্য কেউ যাতে তার মতো অবস্থার শিকার না হয় সেজন্য। এতে কাজ হয়েছে বলেও মনে করছে আসমা।

তার সমস্যাটি বুঝতে পেরেছেন তার শিক্ষক ক্যারিন সেভিনো। আসমার রচনার বিষয় দেখে তার শিক্ষক কতটা অবাক হয়েছেন? জবাবে শিক্ষক বলছেন, বিষয়টা বেদনাদায়ক। সেভিনো বলেছেন তাদের স্কুলটাকে খুবই চমৎকার জায়গা বলেই মনে হয়। অথচ এখানেই আসমার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে সেটা দুঃখজনক।
আসমার জন্ম আমেরিকাতেই। তার বাবা মা এসেছেন পাকিস্তান থেকে। মেজেনরিক বেজবল স্কলাস্টিক জ্যাকি রবিনসনের মেয়ে শ্যারন রবিনসনের উদযোগে ব্রেকিং বেরিয়াস কর্মসূচিতে অংস নিয়ে আসমা তার অভজ্ঞতার কথা জানায়। ঐ কর্মসূচিতে চূড়ান্ত পর্ব ছিলো দেশ জুড়ে রচনা প্রতিযোগিতা।

শ্যারন রবিনসন বলেছেন, তারা ইতিহাস থেকে অনেক কিছু শিখছেন, কিন্তু তারা চান সমসাময়িক বিষয় থেকে শিখতে। সারা দেশের শিশুদের কাছে থেকে, তাদের অভিজ্ঞতা থেকে অনেক কিছুই শিখছেন তাঁরা।

গত এপ্রিলে সারাদেশের ১০ হাজারেরও বেশি প্রতিযোগির লেখা রচনার মধ্য থেকে আসমার রচনাটা সেরা হিসেবে নির্বাচিত হয়। দুই সপ্তাহ পর শ্যারন রবিনসন তাদের স্কুলে আসলে আসমার তার রচনাটা গোটা স্কুলে পড়ে শোনায়।

আসমা জানায় এখন সবাই তাকে সাথে নিতে শুরু করেছে। তারা এখন তাকে আগের মতোন বাজে কথা বলেনা। তারা এখন আসমাকে তাদের সাথে খেলতে আমন্ত্রন জানায়। অবস্থা এখন অনেক ভাল।

স্কুলের বাইরের অবস্থাও এখন ভাল। আসমার বিশাল পুরষ্কারের মধ্যে ছিল অলস্টার গেমে অংশ নেয়ার যাবতীয় খরচ। তাকে সম্মান জানায় ক্লিবল্যান্ডের হাজার হাজার মানুষ। আসমা বলেছে ধর্ম বর্ণ, জাতি, মত যা-ই হোক প্রত্যেকের উচিৎ প্রত্যেককে সম্মান করা। বিশ্বাস যা-ই হোক, সবার উচিৎ সবাইকে সম্মান করা।

একটা শিশুর মুখ থেকে আসা এই কথাগুলো মেনে চললেই দেশ তথা পৃথিবীটা সুন্দর হতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here