web analytics
Pasmisali

সুন্দরবনের বাঘ বিলুপ্তির পথে

সুন্দরবনের বাঘ বিলুপ্তির পথে। জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এর জন্য দায়ী। বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখতে পেয়েছেন আগামী ৫০ বছরের মধ্যে সুন্দরবনের বাঘ বিলুপ্ত হতে পারে। ইতোপূর্বে চোরা শিকারি ও শিল্পায়নকে সুন্দরবনের বাঘের জন্য হুমকীর কথা বলা হলেও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়াকে বাঘ বিলুপ্তীর কারন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে কেননা এর ফলে বাঘের বাসস্থান সুন্দরবনের বড় অংশ ডুবে যাবে। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে বাংলাদেশ (৬২%) অংশের বাঘ বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে বলে মনে করা হয়।

সুন্দরবনের বাঘ বিলুপ্তির এক গবেষণায় বাংলাদেশের ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শরীফ মুকল এর নেতৃত্বে অংশ নেন অষ্ট্রেলিয়ার জেমস কুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দল গবেষক। তারা জাতিসংঘের সহযোগী সংগঠন আইপিসিসি কর্তৃক প্রণীত সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার পূর্বাভাসকে সামনে রেখে সুন্দরবনে দুই ধরনের সমস্যার কথা তাদের গবেষণায় তুলে ধরেন। এক সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে গেলে নিচু এলাকাগুলো ডুবে যেতে পারে যেখানে মূলত বাঘ বেশি বসবাস ও বিচরণ করে। দুই সুন্দরবন এলাকায় বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার ফলে সেখানকার গাছের ধরনের পরিবর্তন ঘটতে পারে। এতে দেখা যাবে সুন্দরী গাছ কমে গিয়ে কেওড়া ও গেওয়া গাছের পরিমাণ বেড়ে যাবে যার ফলস্বরুপ বাঘের বসবাস স্থান বিনষ্ট হবে।

অন্যদিকে বাংলাদেশের বাঘ বিশেজ্ঞরা ভিন্নমত পোষণ করেন। তাদের মতে দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি বড় হুমকি। চোরা শিকারি ও শিল্পায়ন সুন্দরবনের বাঘের জন্য খারাপ হলেও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়লে এর সঙ্গে আসা পলির কারণে এই বন আরো উঁচু হবে বলে তারা মনে করে। সাধারণ ভূমির মতো সুন্দরবন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়লেও ডুববেনা বলে তারা মত দেয়। যদিও বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া ও তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়াকে তারা বাঘের বিলুপ্তির কারনের মধ্যে রেখেছেন।

গবেষণা সর্ম্পকে শরীফ মুকুল জানান সুন্দরবনের চারপাশে শিল্পকারখানার চাপ বাড়ছে, নির্মাণ হচ্ছে নতুন নতুন রাস্তাঘাট সেই সাথে বাড়ছে চোরা শিকারিদের দাপট। এর ফলে বাড়ছে বাঘের বসতি এলাকার বিপদও। । অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের ঘটনা এই বিপদকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। এখনি যদি বাঘ রক্ষায় সরকার এগিয়ে না আসে এবং সাধারণ জনগন বাঘকে পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে সহায়তা না করে তাহলে বাঘ বিলুপ্ত হবে।

সুন্দরবনের বাঘ বিলুপ্তির পথে ‘কম্বাইন্ড ইফেক্টস অব ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড সি-লেভেল রাইজ প্রজেক্ট ড্রামাটিক হেবিটেট লস অব দ্য গ্লোবালি এনডেঞ্জার্ড বেঙ্গল টাইগার ইন দ্য বাংলাদেশ সুন্দরবনস’ শীর্ষক এক প্রবন্ধে বলা হয়েছে পৃথিবীতে মোট ৪ হাজার রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মধ্যে বাংলাদেশে আছে মাত্র ১০৬টি বাঘ। ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকা বাঘগুলোর মধ্যে এখনো যেগুলো টিকে আছে সেগুলো রক্ষার জন্য অবশ্যই সংরক্ষণ ব্যবস্থা বদলাতে হবে। বাংলাদেশ সরকারের হিসাব অনুযায়ী ২০০৪ সালে বাঘের সংখ্যা ছিল ৪৪০টি। ২০১০ সালে রাশিয়ার বাঘ সম্মেলনে ঘোষনা করা হয় ২০২২ সালের মধ্যে পৃথিবী ব্যাপি এর সংখ্যা দ্বিগুন করা হবে। পাশাপাশি জিটিআই কর্তৃক বাংলাদেশেও সংখ্যা দ্বিগুন করা হবে বললেও তা কমেছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনিরুল এইচ খানের মতে বাঘের জন্য সুন্দরবন এমনিতেই প্রতিকুল পরিবেশ ছিল, রয়েল বেঙ্গল টাইগার এই প্রতিকুল পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে দীর্ঘদিন টিকে আছে। তবে চারপাশের শিল্পকারখানা হচ্ছে দূষণ বাড়ছে,বাড়ছে বাঘের বিপদও।  তিনি বলেন খাদ্য সংকটের কারণে বাঘ লোকালয়ে চলে এসে  মানুষের হাতে মারা পড়ছে। তবে বাঘের আশু বিপদ হিসেবে তিনি চোরা শিকার ও শিল্প দূষণকে দায়ী করেন।  তিনি সরকারকে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেন।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close