web analytics
Technology

ল্যাপটপ কেনার আগে জেনে নিন গুরত্বপূর্ণ কিছু তথ্য

আপনি কি নতুন ল্যাপটপ কিনতে যাচ্ছেন? তাহলে কিছু গুরত্বপূর্ণ তথ্য যদি আপনার জানা থাকে তবে আপনার প্রয়োজন আর বাজেট অনুসারে সেরা ল্যাপটপ টি আপনি কিনতে পারবেন। ল্যাপটপ কিনার আগে আপনি নিজেকে প্রশ্ন করুন আপনার ল্যাপটপ টি কেন দরকার। যদি আপনার ইচ্ছে শুধুমাত্র মুভি দেখা, গান শোনা, ইন্টারনেট ব্রাউজ করা সহ ছোটখাটো কাজের জন্য ল্যাপটপ কিনবেন তবে কম বাজেটের ল্যাপটপ আপনার জন্য যথেষ্ট। এক্ষেত্রে আপনি দেখতে পারেন ইন্টেল এর সেলেরন বা পেন্টিয়াম এর প্রসেসর। এছাড়া অল্প বাজেটে এ এম ডি এর কিছু ভাল ল্যাপটপ পাওয়া যায়। যেহেতু আপনি মিডিয়া কন্টেন্ট বেশি দেখবেন তাই আপনি একটু বড় স্ক্রীন এর ল্যাপটপ কিনতে পারেন। কম বাজেটে ১৫” এর ল্যাপটপ হবে আপনার ইউজের জন্য একদম মানানসই।

আবার আপনার যদি ব্যক্তিগত কাজে বা অফিসের কাজে বেশির ভাগ সময় অতিবাহিত করা লাগে তবে আপনার প্রয়োজন বেশি  ব্যটারি ব্যাকাপের ল্যাপটপ। কেনার আগে দেখে নিন আপনি যে ল্যাপটপ টি কিনছেন সেই ল্যাপটপ টি টানা কয় ঘন্টা ব্যাকাপ দিতে পারবে। ব্যাটারি ব্যাকাপের ক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় দেখতে পারেন তা হল ব্যাটারি টি লিথিয়াম আয়নের কি না। যদি লিথিয়াম আয়নের হয়ে থাকে তবে দেখে নিতে পারেন ব্যাটারি টি কয় সেলের। যত বেশি সেলের ব্যাটারি হবে আপনার ল্যাপটপের বেকাপ  তত ভাল হবে। কিনার আগে বিক্রেতার কাছে জেনে নিন আপনার ল্যাপটপের ব্যাটারি সম্পর্কে।

যদি আপনার ইচ্ছে থাকে আপনি হালকা পাতলা গেমিং, অল্প সল্প ভিডিও এডিটিং, আর গ্রাফিক্স এর কাজ করবেন তবে আপনার ইন্টেলের কোর আই৩ বা কোর আই ৫ এর প্রসেসর ভাল হবে। কোর আই ৩ নিলে দেখে নিল লেটেস্ট ৭ অথবা ৮ জেনারেশনের কি না। আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখতে পারেন তা হল প্রসেসরের ক্লক স্পীড। আপনার প্রসেসরের ক্লক স্পিড যত বেশি  হবে আপনার ল্যাপটপ তত দ্রুত কাজ করবে।

আর যদি  আপনার ইচ্ছে থাকে যে আপনি হেভি গেমিং আর হাই লেভেলের ভিডিও এডিটিং এবং গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ করবেন তবে আপনার জন্য কোর আই ৭ অথভা লেটেস্ট কোর আই ৫ প্রসেসর এর ল্যাপটপ কিনাই উত্তম। এছাড়া আপনার কাজ যেন আপনার ল্যাপটপ ভাল মত হেন্ডেল করতে পারে তার জন্য দরকার ডেডিকেটেড গ্রাফিক্স কার্ড। কিনার আগে দেখে নিন আপনার ল্যাপটপে ডেডিকেটেড গ্রাফিক্স কার্ড আছে কি না।

ল্যাপটপ কিনার ক্ষেত্রে আরেকটি দেখার বিষয় হল তার রেম। আপনি যদি নরমাল ইউজার হন তবে আপনার জন্য ৪ জিবি রেম  যথেষ্ঠ । কিন্ত হেভি গেইম আর গ্রাফিক্স এর কাজের জন্য আপনার ল্যাপটপে অন্তত ৮ জিবি রেম হওয়া অনেক প্রয়োজন। এছাড়া দেখে নিন আপনার রেম টি ডিডি আর ৩ নাকি ডি ডি আর ৪ রেম। ডি ডি আর ৪ রেম ডি ডি আর ৩ এর থেকে ৩০%-৪০% দ্রুত হয়ে থাকে। আপনি আরও দেখতে পারেন আপনি যে ল্যাপটপ টি কিনতে যাচ্ছেন সেই ল্যাপটপে রেমের স্লট কয়টি। যদি ২ টি রেমের স্লট থাকে তবে আপনি যেকোন সময় আপনার ল্যাপটপের রেম বাড়িয়ে নিতে পারবেন আরেকটি রেম যোগ করার মাধ্যমে।আপনার ল্যাপটপে যদি ২টি রেমের স্লট না থেকেও থাকে তারপর ও আপনি আপনার ল্যাওপ্টপের রেম বাড়তে পারবেন কিন্ত এই ক্ষেত্রে আপনাকে আপনার আগের রেমটি বিসর্জন দিতে হবে।

এছাড়া ও দেখে নিন আপনার স্টোরেজের ক্ষমতা কত। বর্ত্মানে অন্তন ১ টিবি হার্ডডিস্ক  থাকা দরকার।আপনার ল্যাপটপের স্টোরেজ বা ধারণক্ষমতা যত বেশি হবে তত ভাল। আরেক্ট বিষয় দেখতে পারেন তা হল আপনার ল্যাপটপে এস এস ডি আছে কি না। যদি এস এস ডি থেকে থাকে তবে শুধুমাত্র এ এস এস ডির জন্যই আপনার ল্যাপটপ হয়ে যাবে কেয়েকগুণ দ্রুত।  

ল্যাপটপ কিনার ক্ষেত্রে আপনার ল্যাপটপে কয়টি পোর্ট আছে তা দেখে নেওয়া জরুরি। কিনার আগে দেখে নিন আপনার ল্যাপটপে ইউ এস বি ৩ পোর্ট আছে কি না।  ইউ এস বি ৩ পোর্ট ইউ এস বি ২ পোর্ট এর থেকে কয়েকগুণ দ্রুত হয়ে থাকে। এখন অনেক ল্যাপ্টপে রয়েছে টাইপ সি এর পোর্ট যেটি ইউ এস বি ৩ পোর্ট এর থেকে ও দ্রুত।

অনেকে যাদের সবসময় ল্যাপটপ ব্যাগে নিয়ে ঘুরতে হয় তাদের জন্য ল্যাপটপের ওজন একটি গুরত্ত্বপূর্ন বিষয়। যদি ল্যাপ্টপের ওজন আপনার কাছে গুরত্ত্বপূর্ণ হয়ে থাকে এবং বাজেট আপনার সমস্যা না হয়ে থাকে তবে আপনি ম্যাকবুক নিতে পারেন। ম্যাকবুকের ওজন তুলানামূলক কম হয়। এছাড়াও বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ড এর কম ওজনের ল্যাপটপ পাওয়া যায়।

যে ব্র্যান্ড এর ল্যাপটপ কিনেন না কেন দেখে নিন আপনার কিনা ল্যাপটপের সাথে অফিসিয়াল ওরেন্টি দিচ্ছে কি না। অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি দেখে ল্যাপটপ কিনা তাই উত্তম। প্রায় সব ব্রান্ড ৬ মাস থেকে ১ বছরের অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি দিয়ে থাকে।

এছাড়া কেনার সময় অবশ্যই ওয়ারেন্টি কার্ড, চার্জার, ব্যাগ ইত্যাদি আনুসাঙ্গিক জিনিসপত্র যা আপনার ল্যাপটপের সঙ্গেই পাচ্ছেন তা বুঝে নিতে ভুলবেন না। এছাড়া সবসময় অনুমোদিত ডিলার, আমদানিকারক, বিশ্বস্ত মাধ্যম বা ব্যক্তির কাছ থেকে ল্যাপটপ কিনুন। আর খেয়াল রাখবেন তারা কতটা সময় এর ভিতরে বিক্রয়ত্তোর সেবা দিতে পারবে। কারন যে কোন সময় ল্যাপটপের সমস্যার কারনে আপনাকে বিক্রেতার নিকট যাওয়া লাগতে পারে। কারন আপনার এর মধ্যে জরুরী কাজ থেকে থাকলে বেশ ঝামেলার সম্মুখীন হতে পারেন।

পুরনো ল্যাপটপ কেনা থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করবেন। এরপর ও কিনলে তা ভালভাবে যাচায় বাছায় করে নিবেন।

এছাড়া কেনার আগে কমপিউটার সংশ্লিষ্ট কোন অভিজ্ঞ বন্ধু বা আত্মীয় স্বজনের সহযোগিতা নিতে পারেন। আর আপনার বাজেটের সাথে মিল রেখে কেমন ল্যাপটপ পেতে পারেন

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close