web analytics
Lifestyle

রাগ করবেন না

আজ যে বিষয়টি নিয়ে লিখতে যাচ্ছি সেটি মানুষের জীবনে ভীষনই কমন একটা ব্যাপার। এটা আমাদের জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আর সেটা হল রাগ, ক্রোধ বা Anger। এই ক্রোধ বা রাগ আমাদের শরীরের জন্যে বেশ ক্ষতিকারক। সেই সাথে এটা আমাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পারিবারিক সম্পর্কের জন্যেও ক্ষতিকারক।

এই লেখাটি পুরোটা পড়ুন। হতে পারে লেখাটি পড়লে আপনি আর কখনও রাগ করবেন না বা রেগে গেলেও সেটাকে কন্ট্রোল করে নিতে পারবেন। বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলতে একটা ছোট গল্প শেয়ার করবো। হয়তো গল্পটা অনেকেরই জানা হতে পারে। তা সত্যেও পড়ুন…

এক গ্রামে একটা ছেলে থাকতো। সে ছিলো খুব রাগি। অধিকাংশ সময় রেগে গিয়ে কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলতো। একদিন ছেলেটির বাবা তাঁকে শুধরানোর জন্য, শিক্ষা দেয়ার জন্য পেরেক ভর্তি একটা ব্যাগ তার হাতে দিয়ে বলল, এবার থেকে যখনই তোমার রাগ হবে তখন একটা করে পেরেক বাড়ির চারপাশে ঘেরা কাঠের বেড়াতে হাতুড়ি দিয়ে পুঁতে দেবে।

পরের দিনই বিভিন্ন কারনে সে রেগে গিয়ে ত্রিশটি পেরেক কাঠের গায়ে পুঁতে দেয়। এভাবে কয়েক সপ্তাহ কেটে যায়। এখন সে একটু একটু রাগ নিয়ন্ত্রন করতে শিখে গেছে। আর কাঠের বেড়াতে পেরেকে পোঁতার সংখ্যাটাও অনেকটা কমে এসেছে। বেশিদিন দেরি হলো না সে বুঝতে পারলো কাঠে পেরেক পোঁতার থেকে রাগ নিয়ন্ত্রন করা অনেক সহজ।

এভাবে চলতে চলতে এমন একটা দিন এলো যেদিন তার একবারও রাগ হলো না।এটা ভেবে সে খুব গর্ব অনুভব করছিলো। এই আনন্দের খবরটা সে চেপে রাখতে পারলো না। সে তার বাবাকে গিয়ে জানালো। বাবা এটা শুনে খুব খুশি হয়ে বললেন, এবার থেকে যেদিন তোমার রাগ হবে না প্রতিদিন কাঠ থেকে ৫ টা করে পেরেক তুলে ফেলবে।

কয়েক সপ্তাহ যাওয়ার পর সেইদিনটা হাজির হল, যেদিন তার বাবাকে জানালো কাঠের গা থেকে সে সব পেরেক তুলে ফেলেছে। বাবা আনন্দিত হয়ে, খুশি হয়ে ছেলেকে কাঠের বেড়ার কাছে নিয়ে গেলেন আর বললেন, তুমি খুব ভাল কাজ করেছো খোকা। কিন্তু কাঠের গায়ে যে গর্তগুলো হয়েছে সেগুলো খুব ভালো করে দেখো। এটা আর কখনও আগের মতো হবে না। গর্তগুলো চিরদিন এভাবেই থাকবে।

ছেলেটি তার বাবার কথা খুব মনযোগ সহকারে শুনলো। বাবা আরও বললেন, যখন তুমি রাগের মাথায় কাউকে কিছু বলে দাও, তার মনে এই গর্তের মতোই চিরস্থায়ী নিশানা রেখে যায়। এটাতে কিছুই ম্যাটার করে না যে তুমি তাকে কতবার সরি বললে বা ক্ষমা চাইলে। হয়তো আপাত দৃষ্টিতে সে কিছু মনে করলো না। কিন্তু কোথাও একটা নিশানা কিন্তু থেকেই যায়।

এই বর্ণিত গল্পে ছেলেটি এখন আর রাগ এজন্য করে না, কারন এখন রাগ হলে তাকে পেরেক পুঁততে হবে আবার সেটা তুলতে হবে। এটা বেশ মুশকিল কাজ। এজন্য সে ভেবে চিন্তেই এখন আর রাগ করে না। ক্রোধ দেখায় না।

তো এখান থেকে একটা জিনিস আমরা বুঝতে পারলাম, রাগ করা বা না করা আমাদেরই হাতে রয়েছে। অর্থাৎ আমরা চাইলেই রাগ বা ক্রোধ নিয়ন্ত্রন করতে পারি।

প্রিয় পাঠক, আমরা অনেক সময় কাজের ক্ষেত্রে এবং পারিবারিক সমস্যার কারনে অনেক রেগে যাই। ছোট ছোট কারনে অনেক রেগে গিয়ে নিজের সন্তানদের উপর বা ওয়াইফের উপর অথবা পরিবারের অন্য সদস্যদের উপর ঝেড়ে ফেলি।

বন্ধুরা প্রচন্ড রেগে যাওয়া বা কম রাগা অথবা রাগ না করা এসবই আমাদের কন্ট্রোলে থাকে। যেখানে আমাদের কোন জোর চলে না সেখানে আমরা রাগ দেখাইনা। আর যেখানে আমাদের জোর চলে সেখানে আমরা রাগ দেখাই।

যখন আমরা রেগে যাই তখন এমন কিছু কথা বলে ফেলি যেগুলো ঐ কাঠে পোঁতা পেরেকের মতো হয়। যদি আমরা ওটা তুলেও ফেলি তা সত্যেও একটা গর্ত, একটা ক্ষত, একটা নিশানা সব সময়ের জন্য থেকে যায়।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close