web analytics
BangladeshUpdate News

মায়ের সব অভিযোগের জবাব দিলেন মেয়ে তুবা

রাসদিয়া হাসান তুবা তার মায়ের প্রত্যেকটা অভিযোগকে মিথ্যা বলেছে। সে বলেছে, মা কিছুদিন আগে সংবাদ সম্মেলন করে যেসব অভিযোগ দিয়েছে; তা মিথ্যা। এক গণ-মাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আট বছর বয়সি তুবা বলেছে, মা কখনোই আমার খোঁজখবর নিত না। মায়ের বিয়ের খবর টিভিতে দেখেছি। এছাড়া বাবার বিরুদ্ধে আমাকে তুলে নেওয়ার যে অভিযোগ মা টিভিতে করেছে; তা মিথ্যা। তুবার অভিযোগ, মায়ের বাড়িতে নানি আমাকে প্রায় মারধর করতো। আমি নিজের ইচ্ছাতেই বাবার সঙ্গে দাদি বাড়ি চলে এসেছি। এখানেই আমার জন্মদিন পালন করা হয়েছে। তা ছাড়া দাদি বাড়ির সবাই আমাকে অনেক ভালোবাসে। তুবা আরও বলে, মা আগেও ভালোবাসত না আর এখন তো সে আরেকজনকে বিয়ে করেছে; এখন তো আর প্রশ্নই আসে না। 

অপরদিকে তুবার দাদির ভাষ্য, মায়ের বিয়ের কথা জানার পর থেকেই মেয়েটা ভীষণ চুপচাপ হয়ে গেছে। মেয়েটা খুব কষ্ট পাচ্ছে। বিয়ের খবরে অনেক কান্না-কাটি করেছে। তুবা জানায়, নানি তাকে মারধর করত। তিনি বাবাকেও দেখতে পারত না। কারণে-অকারণে আমাকে চড়-থাপ্পড় দিত। নানি আমাকে সারাক্ষণ ধমকের-ওপর রাখত। এদিক-ওদিক হলেই রাগারাগি-গালাগালি করত। সে কারণেই আমি স্বেচ্ছায় বাবার সঙ্গে দাদির কাছে চলে আসি। বাবা আমাকে অনেক ভালোবাসে। মা আমাকে কখনই তেমন একটা ভালোবাসত না। আদরও করত না। এছাড়া বেশিরভাগ-সময়ই মা বাসার বাইরে থাকত। নিজে থেকে কখনও আমায় ফোন দিত না। আমি ফোন দিলে ব্যস্ত আছি বা প্লেনে আছি বলে লাইন কেটে দিত। বাবা, দাদি, দাদা, চাচ্চু আমায় অনেক ভালোবাসে। 

এই সময় কান্না’জড়িত কণ্ঠে তুবা বলে, মা এখন আর আমায় ফোন দেয় না। আমার সাথে কথাও বলে না। মা অনেক পচা হয়ে গেছে। সে আরেকজনকে বিয়ে করেছে। আপনারা আমার মাকে এনে দিন। আমি মা আর বাবাকে নিয়ে সবাই এক সাথে থাকবো। রাকিবের মা তুবার দাদি বলেন, তুবাই প্রথম টেলিভিশনে দেখে আমার কাছে এসে গলা জড়িয়ে ধরে কান্নায়-ভেঙে পড়ে, আর বলে যে, মা আবার বিয়ে করেছে। তিনি আরও বলেন, গত ২৬ আগস্ট ছিল তুবার জন্মদিন। সেদিন আমরা কেক কেটেছি, তুবা অনুষ্ঠানে নাচ করেছে। ভিডিওকলে তামিমাকে সব দেখিয়েছি আমরা। সে-ও আনন্দ পাওয়ার ভান করেছে সেদিন। কিন্তু তখনও ঘূর্ণাক্ষরেও বুঝতে পারিনি যে সে এ রকম একটা কিছু করবে। প্রসঙ্গত, রাকিবের বাসা ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার পৌর শহরে। তার বাবা একজন ব্যবসায়ী। উপজেলার তালতলাবাজারে তার টিন, রড ও সিমেন্টের দোকান রয়েছে। রাকিব নিজে ঢাকায় ব্যবসা করেন। তার ছোট ভাইও একজন ব্যবসায়ী। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, রাকিবের স্ত্রী কখনই নলছিটিতে আসেনি। এলাকায় নম্র ও ভদ্র হিসেবে পরিচিত রাকিবের বিরুদ্ধে কারও কোনো নালিশও-নেই। 

আরও জানা যায় যে, গত কয়েক দিন ধরেই ক্রিকেটার নাসিরের সঙ্গে তামিমার বিয়ে নিয়ে তোলপাড় চলছে। তালাক না দিয়ে নাসিরকে বিয়ে করার অভিযোগে রাকিব বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলাও করেছেন। আর ওই দিনই সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন নাসির ও তামিমা। সংবাদ সম্মেলনে তামিমা জানান, ক্রিকেটার নাসির হোসেনকে বিয়ে করে তিনি কোনো ভুল করেননি। এ’সময় তিনি এও দাবি করেন, জন্মের পর থেকে একমাত্র মেয়েকে নিজের কাছেই রাখেন এবং ডিভোর্সের পর সব সময় মেয়ের খোঁজ নেন সব বিষয়। তবে দাবি করেছেন, ২০১৯ সালে রাকিব হাসান মেয়ের সঙ্গে দেখা করার কথা বলে ওকে নিয়ে যায়। তবে ২০১৯ সাল পর্যন্ত মেয়ে আমার কাছেই ছিল। আমি আমার মেয়ের ফিট হওয়া, পড়াশোনা’সহ সব কিছুই দেখা-শোনা করেছি। আমাদের মধ্যে সব সময় যোগাযোগ হয়েছে কিন্তু ২০১৯ সালে মেয়ের সঙ্গে ওর বাবা দেখা করবে বলে তাকে আমার কাছ থেকে নিয়ে যায়। এছাড়াও তিনি তালাকের কপি দেখিয়ে রাকিব হাসানের গ্রামের বাড়ি ভৈরবপাশা ইউনিয়ন পরিষদেও পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন। তবে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মাকসুদুল হক মাকসুদ বলেছেন, সাধারণত রেজিস্টার্ড ডাকযোগে এ’জাতীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়। আর রেজিস্টার্ড ডাকযোগে পাঠানো হলে তা না আসার কোনো কারণ নেই। আমাদের রেজিস্টারে এ’ধরনের নোটিশ আসার কোনো প্রমাণও লিপিবদ্ধ নেই। এছাড়াও তামিমার দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে তোল’পাড় শুরু হলে পুনরায় যাচাই করে দেখেছি। কিন্তু কোনো রকম নোটিশ আসার রেকর্ড নেই।

Tags

Related Articles

Back to top button
Close
Close