web analytics
Lifestyle

ভালোবাসা দিবসের ইতিহাস

বিশ্ব ভালোবাসা দিবস কি কেনইবা মানুষ এটা পালন করে বা উৎযাপন করে কখনো ভেবেছেন? বিশ্ব  জুড়ে প্রেমিক যুগল দিনটাকে বিশেষ ভাবে পালন করলেও বেশির ভাগই জানেনা দিবসটির প্রকৃত ইতিহাস। ভালোবাসা দিবস এর পেছনে রয়েছে এক মর্মান্তিক ঘটনা।

ভালোবাসা দিবসের সঠিক ইতিহাস নিয়ে অনেকেই সন্দিহান। এই দিবসটির ইতিহাস নিয়ে নানাধরনের কাহিনী প্রচলিত আছে। এর মধ্যে বেশী আলোচিত কাহিনীটি হলোঃ প্রাচীন রোমে ভ্যালেন্টাইন নামে একজন চিকিৎসক ছিলেন। তিনি খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারী একজন পাদ্রী। যেহেতু খ্রিষ্টানরা মিশনারী জাতি একারণে ভ্যালেন্টাইন তার নিজের খ্রিষ্টান ধর্ম প্রচার শুরু করেন ২৭০ খ্রিষ্টাব্দে। তৎকালীন সময়ে প্রাচীন রোমের জনগণ বিভিন্ন মূর্তি পূজা ও দেব দেবীর পূজা করতো। আর পূজা করার ব্যাপারে খ্রিষ্টান ধর্মে নিষেধ আছে। ভ্যালেন্টাইন পূজা না করে একেশ্বরবাদের প্রচার শুরু করেন। এতে বিরাগভাজন হয়ে রোমের সম্রাট দ্বিতীয় ক্লাডিয়াসের আদেশে তার (ভ্যালেন্টাইন) মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

ভ্যালেন্টাইন যখন কারাগারে বন্দি ছিলেন তখন ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা ভালোবাসার কথা জানিয়ে তার উদ্দেশ্যে চিঠি ছুঁড়ে মারতো। বন্দি থাকা অবস্থায় ভ্যালেন্টাইন জেলারের এক অন্ধ মেয়ের চিকিৎসা করে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেন। এর পর মেয়েটার সাথে তার যোগাযোগ ঘটতে থাকে। মৃত্যুবরণের ঠিক আগের মুহুর্তে ভ্যালেন্টাইন জেলারের কাছে থেকে এক টুকরো কাগজ ও কলম চেয়ে মেয়েটিকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। যার শেষলেখা ছিল From Your Valentine’S ।কথিত আছে ভালোবাসার এই ঘটনাকে অবলম্বন করেই ভ্যালেন্টাইনস ডে ঘোষণা করা হয়। ভ্যালেন্টাইন ডে এর প্রতীক হিসেব ব্যবহৃত হয় কিউপিডের ছবি। কিউপিড হচ্ছে ভালোবাসার রোমান দেবী ভেনাসের পুত্রসন্তান।

অপর এক ইতিহাসে শুধুমাত্র ভ্যালেন্টাইনকে মনে রাখার জন্যই দিবসটি পালন করা হয়। কথিত আছে অত্যাচারী রোম শাসক ক্লাডিয়াস মনে করতো বিয়ে করলে পুরুষদের শক্তি ও বুদ্ধি কমে যায় তাই তিনি খিষ্টীয় তৃতীয় শতাব্দীতে বিয়ে করাকে নিষিদ্ধ করেন। কিন্তু তার এই অণ্যায় আবদার বা আইন তৎকালীন খ্রিষ্টান পাদ্রী ও চিকিৎসক সেন্ট ভ্যালেন্টাইন মেনে নেয়নি। কেননা সেন্ট ভ্যালেন্টাইন মনে করতেন বিবাহের মধ্যেই নারী-পুরুষের প্রকৃত ভালোবাসা নিহিত। তাই তিনি এই আইনের বিরোধিতা করে বিবাহের ব্যাপারে জনগণকে উৎসাহিত করেন এমনকি পাদ্রী হিসেবে গির্জায় অনেক সৈনিকের বিয়ে দেন। এসব ঘটনা শাসক ক্লাডিয়াসের কানে গেলে তিনি সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে কারাগাড়ে বন্দী করেন। পরবর্তীতে কারাগাড়ের জেলারের অন্ধ মেয়েকে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে ভালো করেন এবং মেয়েটির প্রেমে পড়েন। এরপর ক্লাডিয়াস ভ্যালেন্টাইনকে বিবাহের বিরুদ্ধে যেতে বললেও তিনি তা করেননি বরং ক্লাডিয়াসের দেওয়া ফাসিঁর আদেশ হাসি মুখে মেনে নেন। ১৪ ফেব্রয়ারী ২৭৩ খ্রিষ্টাব্দ সেন্ট ভ্যালেন্টাইকে ফাসিঁতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়।

প্রেমিক-প্রেমিকরা ঘটনাটিতে অনেক কষ্ট পায় এবং সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে মনে রাখার জন্য প্রতি বছর দিনটি পালন করে। প্রতি বছর ২.৫ কোটি শুভেচ্ছা কার্ড দিনটিতে আদান প্রদান করা হয়। যদিও ১৭৭৬ সালে ফ্রান্স সরকার দিবসটিকে নিষিদ্ধ করে পরবর্তীতে অষ্ট্রিয়া, হাঙ্গেরী এবং জার্মানীতে দিবসটি বন্ধ করা হয়। ইসলামবিরোধী হওয়ায় ২০১৭ সালে পাকিস্তানে দিবসটি নিষিদ্ধ করা হয়। এত কিছুর পরেও প্রতি বছর প্রায় ১০০ কোটি লোক আপনজন বা ভালোবাসার মানুষকে ফুল, গিফট, চকলেট, কার্ড দিয়ে দিনটি পালন করে।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close