web analytics
Uncategorized

ভারতের চোখে বাংলাদেশী পর্যটক

বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশি পর্যটক ভ্রমন করেন এবং এর সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছে। ভারতে গিয়ে বাংলাদেশী পর্যটকেরা কেমন টাকা পয়সা খরছ করেন? তারা কি অন্যান্য দেশের পর্যটকের মত খরছ করেন? এই প্রশ্নের উত্ত্রে ভারতের পর্যটনমন্ত্রীর বলেন, পশ্চিমা পর্যটকদের চেয়ে বাংলাদেশিদের খরচ করার পরিমাণ কিন্তু কোনও অংশে কম নয়। তারা পাঁচ তারকা হোটেল বা বিলাশীতার পেছনে মোটা অংকের টাকা খরছ না করলেও কেনাকাটায় আর মেডিক্যাল বিলে ভাল টাকাই খরছ করেন বাংলাদেশীরা। এ থেকে বলা যায় বাংলাদেশ এর কাছ থকে ভালই লাভবান হচ্ছে ভারতের পর্যটন শিল্প আর এই কারনেই ভারত চাইছে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি পর্যটক যাক ভারতে।

বাংলাদেশ গত ৩ বছর আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে পিছনে ফেলে ভারতের সর্বোচ্চ পর্যটক যাওয়া দেশ হয়েছে এই থেকে বুঝা যায় বাংলাদেশ থেকে কি পরিমান পর্যটক ভারতে যায়। প্রতিবছর বাংলাদেশ হতে ভারতের ১৬ থেকে ১৭ লক্ষ ভিসা মঞ্জুর হয় এবং এই পরিমাণ টা অন্য যে কোন দেশের তুলনায় বেশি। এত্ত বেশি পর্যটক ভারতে যাওয়া সত্তেও ভারতের বেশি ভাগ লোকের ধারনা বাংলাদেশ থেকে তাদের উপার্জিত অর্থের পরিমান অন্য পশ্চিমা দেশ গুলার তুলনায় নগন্য।

ভারতের পর্যটনমন্ত্রী কে জে আলফানসোর মতে সেটা সম্পূর্ণ ভুল। তিনি বলছিলেন, ‘বাংলাদেশি ট্যুরিস্টরা কিন্তু এখানে এসে প্রচুর টাকা খরচ করেন। তাদের খরছকৃত অর্থের বেশির ভাগই বিয়ার কিনাকাটা অথবা মেডিকেল ট্যুরিজম। এই দুই ক্ষেত্রে ২ হাত খুলে খরছ করেন বাংলাদেশীরা। তিনি বাংলাদেশীদের আরও বেশি বেশি ভারতে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।

ইউরোপ বা উত্তর আমেরিকা থেকে ভারতে আসা পর্যটকেরা,তাদের বাজেটের একটা বড় অংশ খরচ করেন পাঁচতারা হোটেলে কিংবা প্যালেস অন হুইলসের মতো বিলাসবহুল ট্রেনে বা পরিবহনে যা থেকে ভারতীয় অর্থনীতি সরাসরি লাভবান হয়। দিল্লিতে ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব ট্যুর অপারেটরস বা আইএটো-র প্রেসিডেন্ট প্রণব সরকার বলছিলেন, বাংলাদেশি পর্যটকদের যে খরচের প্যাটার্ন তাতে এ দেশের পর্যটন খাত হয়তো সরাসরি ততটা লাভবান হচ্ছে না – কিন্তু দেশের অর্থনীতির জন্য তা অন্যভাবে সুফল বয়ে আনছে। তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশিদের জন্য হসপিটালিটি ইন্ডাস্ট্রির হয়তো তেমন লাভ নেই – কারণ অনেক সময়ই তারা হয়তো চেনাশুনো বা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতেই থাকছেন, এবং লো বাজেটেই তাদের চলে যাচ্ছে।’ পশ্চিমারা তাদের ৫ তারকা হোটেলে থাকার জন্য ১০০ ডলার খরছ করলে বাংলাদেশীরা সে ক্ষত্রে খরছ করছে ২৫ ডলার তার মানে হস্পীটালিটি খাতে মাত্র ২৫ ভাগ অর্থ ভারত পাচ্ছে বাংলাদেশ হতে। কিন্ত বাংলাদেশীরা বিয়ের কিনাকাটা আর হসপিটালের বিল বাবদ যে টাকা টা ব্যয় করে তা পশ্চীমা দেশের পর্যটক রা করে না। যদি দুই দিক বিবেচনা করা হয় তাহলে বাংলাদেশ হতে ভারতের উপার্জিত অর্থ কোন মতেই পশ্চিমা দেশ গুলার চাইতে কম নয়।

পশ্চিমা দেশের পর্যটকদের প্রধান উদ্দেশ্যই থাকে ঘুরা এই জনয তারা ব্যাগপেক আর বেশি কিনাকাটা করতে চান না। কিন্ত বাংলাদেশী পর্যাটক এই ক্ষেত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। কিছু কিছু বাংলাদেশীদের ভারতে আসার প্রধান উদ্দেশ্যই থাকে কেনাকাটা। কলকাতাই ফেশেনাবল ড্রেস এর তুলনামূলক কম দাম এবং ভাল কোয়ালিটি হয়ত বাংলাদেশী পর্যটকদের কেনাকাটার দিক বেশি ঝুঁকার কারণ।

ভারতের পর্যটন বিভাগ বিজ্ঞাপনী ক্যাম্পেন, প্রোমো বা রোড শো আরও বিভিন্ন উপায়ে পশ্চিমা পর্যটকদের ভারতে টানার চেষ্টা করছে কিন্তু পর্যটনমন্ত্রী কে জে আলফানসো বিবিসিকে বলছিলেন সেই দৃষ্টিভঙ্গী এখন পাল্টানো হচ্ছে। তার মতে ভারতে সাদা, কালো  না বাদামি চামড়ার পর্যটক আসলো তাতে ভারতীয়দের কিচ্ছু আসে যায় না। যতক্ষণ তারা ভারতে কর্মসংস্থান তৈরি করছেন, পকেটে টাকা আসছে আর ভারতকে দেখে তারা বলছেন ‘বাহ্, কি সুন্দর দেশ’ তাতেই ভারতীয়রা খুশি।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close