Home Economy ব্যাংকিং খাতে সংস্কার সময়ের দাবি

ব্যাংকিং খাতে সংস্কার সময়ের দাবি

158
0

বর্তমানে দেশে ব্যাংকিং খাতের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা বিশেষ আলোচনার বিষয়বস্তু হিসেবে পরিগণিত হয়েছে । মন্দ ঋণ বা খেলাপি ঋণ দেশের ব্যাংকিং খাতের একটি বড় সমস্যা । একদিকে ব্যাংক সমূহের অনিয়ম-জালিয়াতি রোধ করা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে অন্যদিকে এ খাতের সংস্কারের বিষয়টিও বহুল আলোচিত হচ্ছে । ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থানসহ সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । কিন্তু দুঃখের বিষয় হলেও সত্য এই বিষয়ে ব্যাংক সমূহের কোন ভূমিকা নাই । দেশের বেসরকারি ব্যাংকগুলো এ ক্ষেত্রে তেমন ভূমিকা রাখতে পারছে কিনা, এটা এক বড় প্রশ্ন ।

অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর অবস্থাও ভালো নয় । এ খাতে সুশাসন ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার অভাবের বিষয়টিও বিশেষভাবে আলোচিত । বিশ্ব ব্যাংকের খাতায় অর্থনীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করলেও দেশের অর্থনীতিতে নতুন নতুন ধারার পথ তৈরি হয়নি ।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি প্রস্তর শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে সর্বশেষ রবিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ, বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক, আইএমএফের নির্বাহী পরিচালক, আইএফসি, ভি-২০ গ্রুপের সঙ্গে আলাদা বৈঠক হয়েছে ।বৈঠকে বিশ্বব্যাংক আর্থিক খাতে বড় ধরনের সংস্কারের পরামর্শ দিয়েছে । একইসঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোয় খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমাতে বলেছে । সংস্থাগুলো বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে আরও কার্যকর করার পরামর্শ দিয়েছে। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বৈঠকে বাংলাদেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাত নিয়ে এসব সুপারিশ করা হয় ।

ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত এই ইতিবাচক বৈঠকে আন্তর্জাতিক ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের (আইএফসি) কাছ থেকে প্রতি বছর একশ’ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য যা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশা করা যায় । এদেশের ব্যাংকিং খাতের ওপর বিশ্বব্যাংক একটি স্টাডি পেপার তুলে ধরেছে । স্টাডি পেপারে এ খাতের দুর্বলতা ও করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে । এতে উল্লেখ করা হয়,দেশের অর্থনীতির তুলনায় বাংলাদেশে বেসরকারি ব্যাংকের সংখ্যা অনেক বেশি । এরকম পরিস্থিতিতে ব্যাংকিং খাত সংস্কার করা অতীব জরুরী । বিশ্ব ব্যাংক আরও পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশের উচিত দুর্বল ও ছোট ব্যাংকগুলোকে বড় ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার ।

২০১৫ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করেছে । কিন্তু সেই তুলনায় পরবর্তীতে অর্থনৈতিকভাবে সামনে অগ্রসর হতে পারেনি এখনই সময় দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার করা । এর জন্য উচিত নতুন নতুন অর্থনৈতিক ক্ষেত্র তৈরি করা । সেক্ষেত্রে দেশের ব্যাংকিং খাতকেই অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে । নতুন বিনিয়োগসহ শিল্পে অর্থায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা দরকার । অবশ্যই ব্যাংকিং সংস্কারের পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here