web analytics
Economy

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য: ফল আমদানিতে ব্যয় বেড়েছে দ্বিগুণ

দেশে ফল আমদানি লাফিয়ে বাড়ছে, গত পাঁচ বছরে আপেল, কমলা, মাল্টা ও আঙুর- এ চার ধরনের ফল আমদানিতে ব্যায় বেড়েছে দ্বিগুণ।

কৃষি অধিদফতর বলছে, দেশে মোট আমদানিকৃত ফলে প্রায় ৮৫ শতাংশই এ চারটি ফলের দখলে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকর হিসাব অনুযায়ী, উল্লেখিত চারটি ফল ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৯৪৬ কোটি টাকার আমদানি হয়েছে, যা ২০১৮-১৯-তে ১ হাজার ৮০২ কোটি টাকায় ঠেকেছে।

বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, দেশের মানুষের ফল খাওয়ার প্রবণতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ফল দেশের মোট চাহিদার মাত্র ৩০ ভাগ পূরণ করে এবং বাকিটা আমদানির মাধ্যমে পূরণ হয়। এজন্য আমদানিকৃত ফলের চাহিদা বেশি। যেসব বিদেশি ফল আমদানি হচ্ছে, সেগুলো দেশে উৎপাদন হয় কম। তাই আমদানির বিকল্প নেই। সারা বছর বিদেশি ফলের চাহিদা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব বলছে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১ হাজার ২৭ কোটি টাকার আপেল, কমলা, মাল্টা ও আঙুর আমদানি হয়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ১ হাজার ১৩৫ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা ও ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১ হাজার ৬৪১ কোটি টাকার ফল আমদানি হয় এবং গত পাঁচ অর্থবছরে আপেল, কমলা, মাল্টা ও আঙুর আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৭ হাজার ৯৫৯ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটা সময় ছিল যখন মানুষ রোগী দেখতে যাওয়ার সময় ফল কিনত। কিন্তু এখন দৃশ্যপট পুরোপুরি পাল্টে গেছে। দৈনন্দিন খাদ্য তালিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশজুড়ে রয়েছে ফল। দেশের মানুষের মাঝে পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন, ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণে ফলের চাহিদা বাড়ছে।

কৃষি অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে ফল আমদানি ৭২ শতাংশ বেড়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ফল আমদানিতে ব্যয় হয়েছিল ২৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার বা ২ হাজার ৪৭ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে বিদেশি ফল আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় হয়েছে ২৯ কোটি ডলার বা প্রায় ২ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ৪৬টি দেশ থেকে ওই ছয়টি ফল আমদানি হয়। এর মধ্যে ভারত, চীন, ব্রাজিল, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, ভুটান, মিসর, দক্ষিণ আফ্রিকা অন্যতম। ফলে ভারত থেকে সবচেয়ে বেশি ফল আসে। আপেল, কমলা, আঙুর, নাশপাতি, মাল্টা, চেরি, আনার, বরই, আম ছাড়াও বেবি ম্যান্ডারিন, পাম, নেকটারিন, কিউইর, সুইট মিলান, এবাকাডোর মতো কিছু অপরিচিত ফল আমদানি করা হয়। চট্টগ্রাম বন্দর, ঢাকা বিমানবন্দর, ভোমরা, সোনামসজিদ, হিলি ছাড়াও বেশকটি সীমান্ত এলাকা দিয়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ভারত থেকে ফল আসে। এলসির বাইরেও হুন্ডির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ফল আমদানি হয়।

কৃষি অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, দেশে নতুন নতুন জাতের আম, মাল্টা, কমলা, ড্রাগন ফলসহ বিদেশি জাতের ফলের আবাদ হচ্ছে। এক সময় সেপ্টেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত বিদেশি ফলের ওপর নির্ভরতা ছিল এবং এখন এই সময়ে দেশীয় ফলের সরবরাহ বাড়ছে। তাজা ও রাসায়নিকমুক্ত ফলে আগ্রহ বাড়ছে মানুষের। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের হিসাবে, গত পাঁচ বছরের ব্যবধানে দেশে ফলের উৎপাদন বেড়েছে ২১ লাখ কেজি।

২০১৩-১৪ অর্থবছরে ফল উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৯৯ লাখ ৭২ হাজার কেজি। পাঁচ বছরের ব্যবধানে গত অর্থবছর তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ২১ লাখ কেজিতে। এই অর্থবছর শেষেও ফল উৎপাদন আরও বাড়বে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।এতদিন ফল উৎপাদন বাড়লেও বিদেশি ফলের আমদানি কমেনি এবং কারণ হিসেবে কৃষিবিদরা বলছেন, দেশে গ্রীষ্ম ও বর্ষা ছিল ফল উৎপাদনের ভরা মৌসুম। সেপ্টেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ মাসে ফলের উৎপাদন বা সরবরাহ ছিল কম। তাই এই সময়টাতে মানুষকে বাধ্য হয়ে বিদেশি ফল কিনতে হয়। তবে সময় পাল্টেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের প্রকল্প হাতে নিয়ে এই সময়টাতেও ফলের আবাদ ছড়িয়ে দিচ্ছে। বিদেশি ফল বেচাকেনার ভরা মৌসুমেও এখন পাওয়া যাচ্ছে দেশি ফল। এর মধ্যে প্রধান ফল হল নতুন নতুন জাতের পেয়ারা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close