Home Technology বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট

বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট

4776
0

বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১

১১ মে ২০১৮ কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপিত হয় বাংলাদেশের প্রথম ভূস্থির যোগাযোগ উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। এর মধ্য দিয়ে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকারী পৃথীবির ৫৭ টি দেশের মধ্যে একটিতে পরিণত হল বাংলাদেশ। যা বাংলাদেশের সামনে খুলে দিয়েছে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার। যার মাধ্যমে সমস্ত বিশ্ব জেনেছে বাংলাদেশ ও পারে।

এই স্বপ্নের দিক যাত্রার প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল আরও এক দশক আগে। আকাশে লাল সবুজ পতাকার স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের লক্ষে বাংলাদেশে টেলি যোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি সালে এ বিষয়ে একটি কমিটি করে ২০০৮ সালে। এর পর ২০০৯ সালে জাতীয় তথ্যপ্রযুক্তি নীতিমালায় রাষ্ট্রীয় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের বিষয়টি যুক্ত হয়। এই উদ্দ্যেশ্যে প্রাথমিক ধাপ শেষ করে বাংলাদেশ নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিটের (আইটিইউ) কাছে ইলেক্ট্রনিক আবেদন দাখিলের মাধ্যমে। এরপর ২০১২ সালের মার্চে প্রকল্পের মূল পরামর্শক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘স্পেস পার্টনারশিপ ইন্টারন্যাশনাল’ কে কৃত্রিম উপগ্রহ ব্যবস্থার নকশা তৈরির জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়। ফ্রান্সের কোম্পানি থ্যালাস অ্যালেনিয়া স্পেসের সঙ্গে এক হাজার ৯৫১ কোটি ৭৫ লাখ ৩৪ হাজার টাকার চুক্তি করে বিটিআরসি স্যাটেলাইট সিস্টেম কিনার লক্ষে। উৎক্ষেপণের মাধ্যমে সম্প্রচার ও টেলিযোগাযোগ সেবা পরিচালনায় ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে একনেক সভায় দুই হাজার ৯৬৮ কোটি টাকার ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ’ প্রকল্প অনুমোদন পায়। এর মধ্যে প্রায় ৪৪ শতাংশ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয় যা টাকায় এক হাজার ৩১৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১

রাশিয়ার উপগ্রহ কোম্পানি ইন্টারস্পুটনিকের কাছ থেকে কক্ষপথ কেনার আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয় ২০১৫ সালে। অবশেষে ২০১৭ প্রাথমিক মূলধন হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয় পাঁচ হাজার কোটি টাকা যার মাধ্যমে কৃত্রিম উপগ্রহের সার্বিক ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সংস্থা গঠন করা হয় যার নাম দেওয়া হয় ‘বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানী লিমিটেড’।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ প্রায় ৪০ ধরনের সেবা দেবে যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত আছে টেলিভিশন ও বেতার সম্প্রচার, ইন্টারনেট সেবাদান, ভি-স্যাটসহ আরো অনেক সেবা। এর মাধ্যমে সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন টেলি যোগাযোগব্যবস্থা বহাল রাখা সম্ভব হবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে টেরিস্ট্রিয়াল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও। এর আগে সিঙ্গাপুর, হংকসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্যাটেলাইট ব্যবহার করত দেশের টেলিভিশন চ্যানেল কিংবা টোলিযোগাযোগ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। এখন তাদের দ্বারপ্রন্তে যেতে হবে না বাংলাদেশের আমাদের বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নিশ্চিত করবে সকল সেবা।

কৃত্রিম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন থেকে শুরু করে বাংলাদেশ-ভারত হয়ে তাজিকিস্তান পর্যন্ত ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করার সামর্থ রাখে ৪০ মেগাহার্টজ গতিতে যার জন্য ব্যবহার হবে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার। ৪০টি ট্রান্সপন্ডার এর মধ্যে ২৬টি কেইউ ব্যান্ড এবং ১৪টি থাকবে সি ব্যান্ডের। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ এর মতে বঙ্গবন্ধু-১ যে আমাদের শুধুমাত্র বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ই করবে তা কিন্ত নই এর ট্রান্সপন্ডারগুলা বাইরে বিক্রির ফলে বাইরে দেশে আসবে বৈদেশিক মুদ্রা। তিনি আশা ব্যাক্ত করেন যে স্যাটেলাইটের জীবনের অর্ধেক বয়সেই বাংলাদেশ পুরোপুরি টাকাটা তুলে আনতে পারবে।

বাংলাদেশ ও বঙ্গপোসাগরের জলসীমা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের কেইউ-ব্যান্ড ট্রান্সপন্ডারের স্পট বিমের আওতায় থাকবে । অন্যদিকে ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপিন্স ও ইন্দোনেশিয়া রয়েছে এই ব্যান্ড ট্রান্সপন্ডারের রিজিওনাল বিমের আওতায়।

ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিন্স, বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, ভুটান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কিমেনিস্তান এবং কাজাখস্তানের কিছু অংশ রিজিওনাল সি-ব্যান্ড বিমের আওতায় রয়েছে। ফলে এসব দেশে টেলিযোগাযোগ ও সম্প্রচার সেবা দিতে পারবে বঙ্গবন্ধু-১।

সরকারি এই প্রকল্প নিয়ে অন্যতম প্রত্যাশা হচ্ছে নিজস্ব এই স্যাটেলাইট বাংলাদেশে ডিজিটাল বৈষম্য দূর করতে ভূমিকা রাখবে। ডাইরেক্ট টু হোম (ডিটিএইচ) পদ্ধতিতে স্যাটেলাইট থেকে সিগনাল গ্রহণের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলেও সরাসরি টেলিভিশন সম্প্রচার করা সম্ভব হবে।

বিশেষ করে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশের বিদ্যমান টেরেস্ট্রিয়াল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যোগাযোগব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ব্যবহার করা যাবে।

এ প্রসঙ্গে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ফিরোজ আহমেদ বলেন, সাবমেরিন কেবল সি-মি-উই ৪ এবং সি-মি-উই ৫ যদি কোনো কারণে কাজ না করে তখন বিকল্প যোগাযোগে এই স্যাটেলাইট কাজে আসবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here