Home Technology বাংলাদেশি ইমরান খানের গল্প

বাংলাদেশি ইমরান খানের গল্প

166
0
ছবিঃ সংগ্রহীত

এবার একজন ইমরান খানের কথা- যার জন্ম ও বেড়ে ওঠা বাংলাদেশে কিন্তু এখন রাজত্ব করছেন বিশ্ব আর্থিক বাজারের প্রাণকেন্দ্র ওয়াল স্ট্রিটে। পনের কোটি ডলারের শেয়ারের বিনিমইয় তাঁকে নিয়োগ দিয়েছে প্রযুক্তি কোম্পানি স্নাপ। যে গল্প এখন মার্কিন আর্থিক খাতে সবার মুখে মুখে।

স্নাপচ্যাট বিশ্বের অন্যতম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। ব্যবহারকারী সাড়ে পনের কোটি। যারা প্রতিদিন এখানে শেয়ার করে প্রায় ছয়শকোটি ভিডিও। স্নাপচ্যাট নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয়েছে গেলো দুই মার্চ। প্রথমদিনের লেনদেনের হিসেবে কোম্পানিটির বাজার মূল্য দাঁড়িয়েছে দুই হাজার আটশকোটি মার্কিন ডলার। ওইদিন তাদের একেকটি ১৭ ডলারের শেয়ার বিক্রি হয় ২৪ ডলারে। যা মূল্য বৃদ্ধিতে পেছনে ফেলেছে ফেসবুক ও অনলাইন বানিজ্যক পোর্টাল আলিবাবাকেও। এতে রাতারাতি বিলিয়েনিওর ক্লাবে ঢুকে গেছেন স্ন্যাপচ্যাটের দুই প্রতিষ্ঠাতা ইভান ইস্পিগেল এবং ববি মারফি।

কিন্তু তাদের চেয়েও বেশি আলোচনা হচ্ছে কোম্পানিটির চীফ স্ট্রাটিজিক অফিসার ইমরান খানকে নিয়ে। শেয়ার বাজারে স্নাপচ্যাটের বাড়তি মূল্যের বিক্রির পেছনে মূল ভূমিকা রাখা খান জন্মসূত্রে একজন বাংলাদেশি।

দুইবছর আগে ইমরান খানকে বিনিয়োগ ব্যাংক ক্রেডিট ক্রেডিট সুইস থেকে নিয়ে আসে স্নাপচ্যাট। এজন্য তাঁকে দেয়া হয় প্রতিষ্ঠানটির সাড়ে চৌদ্দ কোটি ডলারের শেয়ার। যার বাংলাদেশি টাকায় এগারশ কোটি সমান।

ইমরানের পেছনে এতো অর্থ ব্যয় যে বৃথা যায়নি তার বড় প্রমান কোম্পানিটির আয়। যা মাত্র এক বছরে আটগুন বেড়ে হয়ে গেছে ৪০ কোটি ডলার। আশা, এটি চলতি বছর শেষে ১০০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে।

ইমরান ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে পাড়ি জমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। ইউনিভার্সিটি অফ ডেনভারের ড্যানিয়েল কলেজ অফ বিজনেস থেকে ২০০০ সালে গ্রাজুয়েশন শেষ করে যোগ দেন স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড উইন ব্লুতে। বেশকিছুদিন ইন্টারনেট ভিত্তিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করেন। ২০০০ সালে যোগ দেন জেপি মরগান চেজে।

মাত্র ২৯ বছর বয়সেই জেপি মরগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে বসেন। ২০১১ সালে যোগ দেন ক্রেডিট সুইসে । এবার আর বাজার বিশ্লেষক নন, একেবারে বিনিয়োগ ব্যাংকার হিসেবে। তার নেতৃত্বেই গ্রুপন, গোড্যাডি এবং উইবো শেয়ার বাজারে আসে।  আর ২০১৪ সালে আলিবাবাকে আড়াই হাজার কোটি ডলারে শেয়ার বাজারে নিয়ে আসে। আর এটি স্নাপচ্যাটকে উৎসাহী করে ইমরানকে নিজেদের করে নিতে। তিনি এখন বছরে বেতন পান দুই লাখ একচল্লিশ হাজার ডলার। আর বিদায়ী বছরে পেয়েছেন পঞ্চাশ লাখ ডলার বোনাস।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here