Home Travel ঘুরে আসুন বাঁশতলা স্মৃতিসৌধ হতে

ঘুরে আসুন বাঁশতলা স্মৃতিসৌধ হতে

438
0
বাঁশতলা স্মৃতিসৌধ ছবিঃ সংগৃহীত

উত্তরে ভারতের চেরাপুঞ্জি ও মেঘালয় রাজ্য, পূর্বে ছাতক উপজেলা, পশ্চিমে সুনামগঞ্জ জেলা আর মাঝখানে অবস্থিত সিলেটের দোয়ারা বাজার উপজেলা। সুনামগঞ্জ থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দোয়ারা বাজার। দোয়ারা বাজার উপজেলা পরিষদ থেকে সিলেট শহর মাত্র ৫০ কিলোমিটার উত্তরে। যেহেতু দোয়ারাবাজার সুরমা নদীর উত্তরপাড়ে সিলেটের সাথে এর সড়ক পথে সরাসরি যোগাযোগ নেই। ভারতের সীমান্ত যেহেতু খুব কাছে শীতের তীব্রতা টাও একটু বেশি এইখানে। সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে ১৯৮৪ সালে উপজেলা পরিষদ গঠনের পর গঠিত হয়েছিল এই দোয়ারা বাজার উপজেলা। পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত এ উপজেলায়। এই উপজেলায় আরও রয়েছে জেলার সর্বাধিক মুক্তিযোদ্ধার বসবাস। এখানে রয়েছে বাঁশতলা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কবরস্থান এবং বাঁশতলা শহীদ স্মৃতিসৌধ। ছুটির দিনে ঘুরার জন্য বাঁশতলা স্মৃতিসৌধ হতে পারে আপনার জন্য এক আনন্দময় ঘুরার জায়গা।

দিন যত বাড়তে থাকবে মানব কোলাহল অ বাড়তে থাকবে তাই আপনি যদি গন্তব্য হয়ে থেকে বাঁশতলা শহীদ স্মৃতিসৌধ তাহলে আপনার একটু ভোরে রওনা দেওয়াই ভাল। বিভিন্ন অচেনা, নিস্তব্ধ-নিঝুম পথ পেরিয়ে যখন যাত্রা করবেন বাঁশতলা শহীদ স্মৃতিসৌধ এর দিকে তখনই আপনার মন আনন্দে ভরে উঠতে বাধ্য। যত এগুতে থাকবেন সামনে বাড়তে থাকবে মেঘ আর পাহাড়ের হাতছানি। পথের দুই পাশের সৈন্দর্য আর নানা পাখির ডাক আপনাকে মুগ্ধ করবে। যাত্রা পথে সামনে পড়বে ছাতক পাবলিক খেয়াঘাট সেইখান থেকে বাঁশতলা যাওয়ার পথটির প্রাকৃতিক শোভা ভারি সুন্দর। আর অবশেষে যখন বাঁশতলা পৌঁছাবেন তখন আনন্দে ভরে উঠবে আপনার মন। আপনার অনেক কাছেই থাকবে পাহাড়। চারপাশের সৈন্দর্য আর আকাশে নীলের হাতছানি এই যেন ধরণীর বোওকে ছুট্ট একটি স্বর্গ। স্মৃতিসৌধে পৌঁছানোর আগেই মুগ্ধ করবে আপনাকে এই খাঙ্কার সুইস গেট। চেলাই খালের ওপর নির্মিত এই সুইস গেটের সৌন্দর্য অসাধারণ। স্মৃতিসৌধে যাওয়ার জন্য আপনাকে আরও সামনের দিকে এগুতে হবে।

 

এই বাঁশতলা শহীদ স্মৃতিসৌধ যে শুধুমাত্র তার প্রকৃতিক সৈন্দর্যের জন্যই গুরত্ব বহন করে তা নই এর সাথে জড়িত আছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস। ডাউক সড়ক থেকে সুনামগঞ্জ এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহ সীমান্তবর্তী অঞ্চল নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পাঁচ নম্বর সেক্টর। ৫ নম্বর সেক্টরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী। ৫ নম্বর সেক্টরের সাবসেক্টর ছিল সুনামগঞ্জ জেলার বাঁশতলা। এখানকার সেক্টর কমান্ডার ছিলেন ক্যাপ্টেন হেলাল উদ্দিন। বাঁশতলা এলাকায় এবং তার আশপাশে মুক্তিযুদ্ধে যারা শহীদ হওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সমাহিত করা হয় বাঁশতলার এ নির্জনে। আর সেই স্মৃতিকে অম্লান করে রাখার জন্য নির্মাণ করা হয় বাঁশতলা স্মৃতিসৌধ।

বাঁশতলার স্মৃতিসৌধ পৌছানোর পর চারপাশের গাছ-গাছালি দেখতে পাবেন আর শুন্তে পাবেন পাখির কিচির-মিচির আওয়াজ। এই সৌন্দর্য দেখে আপনার পলক পড়তে চাইবে না। স্মৃতিসৌধের পেছনের পাহাড়গুলির দিকে তাকালে আপনার মনে হবে দূরে পাহাড়গুলো আকাশ ছুঁয়েছে। সেই পাহাড়ের চূড়াঁতেই আছে মেঘ মনে হবে যেন পাহাড়ে উঠতে পারলেই আপনি হারিয়ে যেতে পারবেন মেঘের রাজ্যে। এর পর নীচে আছে লেক যার অত্যন্ত স্বচ্ছ পানিতে আকাশের নীল রঙ এর প্রতিফলন হয়। স্মৃতিসৌধের বাম পাশের রাস্তা দিয়ে কিছুটা হাঁটলে দেখবেন সবুজ ছায়ায় মুক্তিযুদ্ধে নাম না জানা ১৪ জন শহীদের সারি সারি সমাধি। কোলাহল মুক্ত পরিবেশে আমাদের জন্য জীবন উৎস্বর্গ করা আমাদের প্রিয়জনরা ঘুমিয়ে আছেন। এর পাশে আছে আকাশ ছোঁয়া বৃক্ষ এই যেন এক একটি প্রহরী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পাহাড়ের একপাশে ঘন কালো মেঘের অন্ধকার। অন্য পাশে কাঠফাটা রোদ। এ যেন প্রকৃতির এক অনন্য খেলা। স্মৃতিসৌধ আর পাহাড়কে বিদায় জানিয়ে ১০ মিনিট হাঁটলে চলে আসবেন টিলার ওপর পাহাড়ি গ্রামে। এইখানে বসবাস করে প্রায় ৩৬ ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী পরিবার। এইখান থেকে যে দিকে তাকাবেন শুধু পাহাড় আর পাহাড় দেখতে পাবেন।

জেনে নিন কিভাবে যাবেনঃ সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারা বাজার উপজেলার বাঁশতলায় যেতে হবে আপনাকে যদি আপনার উদ্দেশ্য থাকে বাঁশতলা স্মৃতিসৌধ। আপনি চাইলে সুনামগঞ্জ জেলা সদর থেকে বাঁশতলা যেতে পারবেন। আবার ছাতক উপজেলা থেকেও বাঁশতলা যাওয়া যাবে। দিনরাত ঢাকা-সিলেট-সুনামগঞ্জ বাস চলাচল করে। সুবিধামতো সময়ে হানিফ, ইউনিক কিংবা শ্যামলী পরিবহনের যে কোন বাসে চেপে বসলেই হবে। সন্ধ্যার বাসে সিলেট যাত্রা করলে রাত ১২টার মধ্যে সিলেট পৌঁছে রাতে বিশ্রাম নিয়ে পরদিন বাঁশতলা যাত্রা করাটাই উত্তম। সকালে আম্বরখানা থেকে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় আপনাকে ছাতক আসতে হবে। ভাড়া মাথাপিছু ৮০ থেকে ১০০ টাকা। এবার ছাতক বাজার থেকে সুরমা নদী পার হয়ে আবার সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চেপে সরাসরি বাঁশতলা। তা ছাড়া মাইক্রোবাস করেও যেতে পাড়বেন বাঁশতলা স্মৃতিসৌধে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here