Home Lifestyle ফুলকপির উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ

ফুলকপির উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ

115
0

শীত মানেই সুস্বাদু সবজি ফুলকপির সমাহার। ফুলকপি বাংলাদেশে একটি পুষ্টিকর অত্যন্ত জনপ্রিয় শীতকালীন সবজি। বহুমুখী গুণ সম্পন্ন সবজিটি রান্না করে, সেদ্ধ বা কাঁচাও খাওয়া যায়। ফুলকপিতে ভিটামিন ‘এ’, ‘সি’ ও ক্যালসিয়াম, মিনারেল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অন্যান্য ফাইটোকেমিক্যালও থাকে।  এতে ৮৫% পানি, অল্প পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট ও প্রোটিন থাকে। নানাগুণে গুণান্বিত এই সবজি রোগ প্রতিরোধক হিসেবে দারুণ উপকারী। ফুলকপিতে রয়েছে ভিটামিন, খনিজ উপাদান ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা শরীরের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। জেনে নিন সুস্বাদু আর পুষ্টিগুণে ভরপুর ফুলকপির উপকারিতা ।

ক্যান্সার প্রতিরোধকক্যান্সারের জীবাণুকে দেহ থেকে বের করে দেওয়ার জন্য ফুলকপির কোন জুডি নেই। ফুলকপিতে থাকা সালফোরাফেন ক্যান্সার সৃষ্টিকারী কোষ ধ্বংস করতে পারে এবং টিউমারের বৃদ্ধিকে বাঁধা দেয়। স্তন ক্যানসার, কোলন ও মূত্রথলির ক্যান্সারের জীবাণুকে ধ্বংস করে এই সবজি।

ফুসফুসকে রক্ষা করেফুলকপি আমাদের ফুসফুসকে অনেক জটিল রোগ থেকে রক্ষা করে। ফুলকপি ফুসফুস এর রোগের জন্য দায়ী জীবাণুকে প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। এছাড়া ফুলকপি হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। তাই ফুসফুস ভালো রাখতে বেশি বেশি ফুলকপি খান।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে
ফুলকপির সালফোরাফেন উপাদান উচ্চ রক্তচাপ কমায় এবং কিডনি সুস্থ রাখে। এছাড়া ধমনীর ভেতরে প্রদাহ রোধে ফুলকপি সাহায্য করে। যারা উচ্চরক্তচাপজনিত সমস্যায় ভুগে থাকেন, তারা খাবারের তালিকায় ফুলকপি রাখতে ভুলবেন না।

ভিটামিন এবং খনিজ এর অন্যতম উৎসফুলকপিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, প্রোটিন, থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, নিয়াসিন, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, ফাইবার ভিটামিন বি৬, ফলেট, পটাশিয়াম ও ম্যাঙ্গানিজ। যা আমাদের সুস্থ রাখতে খুবই উপকারী।

মস্তিষ্কের উন্নতি ঘটায়ফুলকপিতে বিদ্যমান ভিটামিন বি এবং কোলিন উপাদান মস্তিষ্ক ভালো রাখতে ভীষণ উপকারি। গর্ভাবস্থায় এ সবজি একটি ভালো খাদ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। গর্ভবতী মায়েরা নিয়ম করে ফুলকপি খেলে, নবজাতকের মস্তিষ্কের সম্পূর্ণ বিকাশ সাধন হয়।

ওজন কমতে সাহায্য করে
কম ক্যালরির খাবার হিসেবে ফুলকপি আদর্শ খাবার। ফুলকপিতে প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার থাকে এবং খুবই কম ক্যালোরি ও ফ্যাট থাকে যা ওজন কমাতে অত্যন্ত সহায়ক। ফুলকপি শরীরের বাড়তি মেদ কমিয়ে শরীরকে একটি সুন্দর গঠনে আনতে সাহায্য করে। যারা তাদের শরীরের বাড়তি ওজন নিয়ে চিন্তিত তারা নির্দ্বিধায় খেতে পারেন ফুলকপি।

হজমে সাহায্যকারীফুলকপিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার বা খাদ্য আঁশ যা খাদ্য হজম প্রক্রিয়াতে খুব সহায়ক।  এছাড়া ফুলকপির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও সালফার-জাতীয় উপাদান খাবার হজম প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে।

চোখের যত্নে ফুলকপি
ফুলকপি চোখকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। ফুলকপিতে ভিটামিন এ-এর পরিমাণ বেশি থাকায় চোখের যত্নে ফুলকপির কোন তুলনা হয় না। তাই চোখকে সুস্থ আর সুন্দর রাখতে বেশী বেশী ফুলকপি খাওয়া উচিত।

শরীরকে বিষমুক্ত করে এবং প্রদাহ কমায়
ফুলকপির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরকে বিষমুক্ত করতে সাহায্য করে। এছাড়াও এতে গ্লুকোসিনোলেটস থাকে যা শরীর থেকে টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে। ফুলকপিতে ইন্ডোল-৩-কার্বিনোল থাকে যা শরীরকে ইনফ্লামেশন বা প্রদাহ থেকে রক্ষা করে।

শুধু সুস্থ দেহের জন্যই নয়, চুল, ত্বক ও সাধারণ কাঁটা ছেঁড়া ও ইনফেকশন প্রতিরোধে ফুলকপির তুলনা হয় না। ফুলকপির ভিটামিন এবং মিনারেল শরীরকে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত ফুলকপি খেলে দেহের প্রয়োজনীয় পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয়। তাছাড়া ফুলকপির অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো ফ্রি র‍্যাডিকেলের ক্ষতির হাত থেকে শরীরকে সুরক্ষা দেয়, বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে ধীর করে এবং টিস্যু ও অঙ্গের ক্ষতি হওয়া প্রতিহত করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here