Home Technology ফিরবে না জেনেও মঙ্গলের বুকে হারাতে যাচ্ছে এলিজা

ফিরবে না জেনেও মঙ্গলের বুকে হারাতে যাচ্ছে এলিজা

1590
0
এলিজা কার্সন। সংগ্রহীত ছবি

এলিজা কার্সনের বয়সী ছেলে-মেয়েদের স্কুলের গণ্ডি পার করে কলেজে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন থাকে অথচ তার সে পারি জমাচ্ছে অনিশ্চিতের পথে। এখনও যার বয়স আঠারোর কোঠায়। বন্ধু বান্ধব নিয়ে হইহুল্লোড় করে সময়টা পার করার নেশায় বিভোর থাকতে পছন্দ করে সবাই কিন্তু এলিজার স্বপ্ন অন্যদের থেকে একটু না, বরং অনেকটা দুঃসাহসিকই বলতে হবে। পৃথিবী থেকে মিলিয়ন মাইল দূরের ভিন্ন গ্রহের নাগরিক হওয়ার নেশায় মত্ত সতেরো বছরের এলিজা কার্সন।

নাসার সবচেয়ে কনিষ্ঠতম সদস্য এলিজা কার্সন। সব কিছু অনুকূলে থাকলে এলিজা হবে ২০৩৩ সালে মঙ্গলে যাওয়া পৃথিবীর প্রথম মানুষ হবেন। আর যেহেতু সে মঙ্গলে গেলে ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই কম তাই নাসার কাছে সে কোনো প্রকার যৌনতা, বিয়ে বা সন্তানধারণের নিষেধাজ্ঞাপত্রতে স্বাক্ষরিত হয়েছে সে।

এলিজা মা কে তিনি তা জানে না। কারন সিংগেল প্যারেন্ট হিসেবে বাবার কাছে বড় হয়েছে সে। ৭ বছর বয়সে বাবা তাকে নিয়ে গিয়েছিলেন আলবামার একটি স্পেস ক্যাম্পে এবং সেই ক্যাম্পের অভিজ্ঞতা তাকে এমনভাবে নাড়া দিয়েছে যে তার ভাবনার জগতটাই অন্য শিশুদের চাইতে আলাদা হয়ে গেছে।

যখন তার ১২ বছর বয়স, তখন সবচেয়ে কম বয়েসী হিসেবে আলবামা, কানাডার কুইবেক ও তুরস্কের ইজমিরে নাসার তিনটি ভিন্ন স্পেস ক্যাম্পে অংশ নেয় এলিজা এবং তাকে সাহায্য করেছিলেন নাসা’র এক মহাকাশচারী সান্ড্রা ম্যাগনাস।

মহাশূন্যের বেসিক জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি বিভিন্ন মিশন কিভাবে পরিচালিত হয়, তা শিখে নিয়েছেল সে। মহাকর্ষ-শূন্য স্থানে চলাচল করার পদ্ধতি, ভারহীন স্থানে থাকার উপায় শিখেছে এবং অর্জন করেছে বিশেষ মুহূর্তে জরুরি সিদ্ধান্ত নেয়ার অসাধারণ দক্ষতাও রয়েছে তার অনেক বেশি। রোবোটিকস্ বিষয়ে জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি একটি রকেটও বানিয়েছে সে নিজে। আর এভাবেই নাসা’র থেকে তাকে একটি ‘কল নেম’-ও দেয়া হয়েছে- ব্লুবেরি।

সাধারণত অফিসিয়ালি নাসা ১৮ বছরের আগে কাউকে নভোচারী হিসেবে আবেদন করার সুযোগ দেয় না তবে এলিজার ক্ষেত্রে এ নিয়ম মানা হয়নি নাসা’র। প্রথম থেকেই প্রতিষ্ঠানটি এলিজাকে মানুষের ভবিষ্যৎ মঙ্গল অভিযানের জন্য শক্ত সমর্থ করে তৈরি করতে চেয়েছে। ২০৩৩ সালে যখন মঙ্গল গ্রহে প্রথমবার মানুষ পাঠানোর অভিযান শুরু হবে তখন এলিজার বয়স হবে ৩২ বছর, যা একজন নভোচারীর জন্য যথাযথ বয়স বলে গন্য করা হয়

এলিজা জানে, সে হয়তো আর ফিরে আসবেনা এই চেনা পৃথিবীতে। আর মাত্র ১৪ বছর পরে একমাত্র নিঃসঙ্গ মানুষ হিসেবে কোটি কোটি মাইল দূরের লোহার লালচে মরিচায় ঢাকা প্রচন্ড শীতল নিষ্প্রাণ গ্রহের ক্ষীয়মাণ নীল নক্ষত্রের নিচে হারিয়ে যাবে কিন্তু তাতে ভীত নয় সে।

পোজামের মহাকাশ গবেষক এলিজার সাহসিকতা নিয়ে বলেন, ‘এ বয়সে মহাকাশ যানে ঘুরে বেড়ানো বা ভিন্ন গ্রহে যাওয়ার ইচ্ছা থাকাটা স্বাভাবিক তবে এলিজা ইতোমধ্যে বিশ্ব নাগরিক হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে, যা সবার নজর কেড়েছে এবং সে চাইনিজসহ বিভিন্ন ভাষায় যোগাযোগ করতে পারে। তাছাড়া তার বিষয়টি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী, আমরা তার বয়সী তরুণদের উৎসাহিত করতে এ সুযোগ দিচ্ছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here