Home Pasmisali পৃথিবী থেকে অস্বাভাবিক হারে কমে যাচ্ছে কীটপতঙ্গ

পৃথিবী থেকে অস্বাভাবিক হারে কমে যাচ্ছে কীটপতঙ্গ

297
0
সংগ্রহীত ছবি

পৃথিবী থেকে অস্বাভাবিক হারে কমে যাচ্ছে কীটপতঙ্গ যাকে অনেকে ‘নাটকীয়’ ঘটনা বলে আখ্যায়িত করছেন এবং পোকামাকড় যা আছে তা পরবর্তী দশকে ৪০ শতাংশ কমে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা।

সাময়িকী “বায়োলজিক্যাল কনজারভেশনতে” বলা হয়েছে পৃথিবী থেকে প্রায় আট গুণ হারে কমে যাচ্ছে মৌমাছি, পিঁপড়া ও গুবরেপোকার মতো কীটপতঙ্গ। আর যেসব উপকারী কীট সবচেয়ে বেশি কমেছে তা হল মৌমাছি, পিঁপড়া, গুবরেপোকার, স্তন্যপায়ী, পাখি ও সরীসৃপ জাতীয় প্রাণী।

কীটপতঙ্গ বিলুপ্তির পেছনে চারটি বিষয়কে চিহ্নিত করেছে ও এক-তৃতীয়াংশকে বিপন্নপ্রায় বলে উল্লেখ করেছে বিবিসির প্রতিবেদনে। বরং বাড়িঘরে থাকা মাছি ও তেলাপোকা বাড়ছে।

ওই পর্যালোচনার প্রধান লেখক সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ফ্রান্সেসকো সানচেজ-বেয়ো বর্ণনা করে বলেন, পোকামাকড় হারিয়ে যাওয়ার কারণগুলোর প্রধান কারণটি হলো একই জমিতে বারবার চাষপ্রবণ কৃষিব্যবস্থা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং বন উজাড়ের কারণে পোকামাকড় আবাস্থল নষ্ট হওয়ার মতো কর্মকাণ্ড।

দ্বিতীয় কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, কৃষিতে মাত্রাতিরিক্ত সার ও কীটনাশক প্রয়োগ এবং রাসায়নিক দূষণ যা মানবদেহের জন্যেও অত্যন্ত ক্ষতিকারক। তৃতীয় কারণ দেখানো হয়েছে , জৈবিক অর্থাৎ প্রাকৃতিক খাদ্যচক্র ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ (প্যাথোজেন) এবং চার নম্বর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, জলবায়ুর পরিবর্তন যা বিশেষ করে গ্রীষ্মপ্রবণ এলাকার ক্ষেত্রে আশঙ্কাজনক।

এটি ছিলো মূলত একটি পর্যালোচনামূলক গবেষণা যা ওই সাময়িকীতে ১৩ বছর ধরে প্রকাশিত ৭৩টি গবেষণাকর্মের ওপর ভিত্তি করে এই পর্যালোচনামূলক গবেষণা প্রকাশ করা হয়েছে।

যেসব কীটপতঙ্গ হারিয়ে যাচ্ছে তার মধ্যে প্রথম দিকেই আছে মৌমাছি, পিঁপড়া, গুবরেপোকা, স্তন্যপায়ী প্রাণী, পাখি বা সরীসৃপ জাতীয় প্রাণীও যা স্বাভাবিক হারের আট গুন। কিন্তু বাড়িঘরের মশা, মাছি ও তেলাপোকা এই কাতারে নেই যা দিন দিন বেড়েই চলছে কারন সেখানে তারা অপেক্ষাকৃত অনুকূল পরিবেশ পায় ও সহজে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে তাঁরা।

সংগ্রহীত ছবি

এভাবে পৃথিবী থেকে পোকামাকড় কমে গেলে মানুষসহ পরিবেশের ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে গবেষণা প্রতিবেদন নিবন্ধে বলা হয়েছে। কারণ হিসেবে বলে হয়েছে, এসব কীটপতঙ্গ পাখি, সরীসৃপ ও অনেক ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণীর খাদ্যের জোগান ও পাশাপাশি শস্য উৎপাদনে ভূমিকা অনেক অনস্বীকার্য। কারণ, ফসলের ৭৫ শতাংশ পরাগায়ণ কীটপতঙ্গরা করে থাকে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব মানুষের ওপরও পড়বে ব্যাপকভাবে

তবে গবেষণাটির কিছু সীমাবদ্ধতা আছে যা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ভিত্তিতে বিভিন্ন পর্যালোচনা আসতে পারে। আর যেসব গবেষণাপত্রের ওপর ভিত্তি করে এই পর্যালোচনা করা হয় সেসবের নিরানব্বই শতাংশ তথ্যই উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপ থেকে নেওয়া এবং সেই অনুপাতে দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকা উপস্থিতি শূন্যের কোঠায় বলে ধারণা করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here