web analytics
Pasmisali

চিন্তামুক্ত থাকতে স্বেচ্ছায় কারাবাস

কারাবাস মানেই চার দেয়ালের মাঝে বন্দী জীবন। কেউই কারাগারে থাকতে চান না। কিন্তু সাউথ কোরিয়ার কিছু মানুষ প্রতিদিনের নানা কাজের ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে কারাগারে থাকাটাই ভালো মনে করেন। তাদের ধারণা কারাগারে থাকলে দুনিয়ার সকল চিন্তা থেকে দূরে থাকা যায়। সাউথ কোরিয়াতে স্বাধীনভাবে পাশ করার এক অভিনব পদ্ধতি হচ্ছে এই স্বেচ্ছা কারাবাস।

পার্ক হাইরি একজন অফিস ওয়ার্কার। চিন্তামুক্ত থাকতে তিনি বেছে নিয়েছেন এই নকল কারাগার। এ কারাগারে থাকতে তিনি ২৪ ঘণ্টায় ৯০ ডলার ফি প্রদান করেন।

আরেকজন কারাবাসি আহাইরি বলেছেন এই কারাগার তাকে মুক্তির স্বাদ দেয়।

দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় হং চিওন এলাকায় প্রিজম ইনসাইড মি নামের কারাগারটিতে ২০১৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মানুষ স্বেচ্ছায় কারাবরণ করেছেন।

এদের অনেকেই চাকুরীজীবী আর স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী। অন্যান্য সাধারণ কারাগারের মতই এই কারাগারের নিয়ম অনেক কঠিন। এখানে সকল প্রকার যোগাযোগ ব্যবস্থা নিষিদ্ধ। এই কারাগারের মোবাইল ফোন, ঘড়ি, এমনকি আয়নাও ব্যবহার করা যায় না।

এসব স্বেচ্ছাবন্দিরা নীল ইউনিফর্ম পড়ে থাকেন। যোগ ব্যায়াম করার একটি মাদুর এবং লেখার খাতা কলম পান।

কারগার কক্ষে ছোট একটি টয়লেট আছে। আর বন্দীকে ঘুমাতে হয় মেঝেতে। এসব স্বেচ্ছাবন্দিদের দুই বেলা খাবার দেয়া হয়। সকালের নাস্তা হিসেবে থাকে জাউভাত আর রাতে খাবারের মেনুতে থাকে সিদ্ধ মিষ্টি আলু।

বিশেষজ্ঞরা জানান, সাউথ কোরিয়ার প্রযুক্তি নির্ভর অর্থনীতির কারণে সেখানে স্কুল-কলেজ ও কর্মক্ষেত্রে ব্যাপক প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হয় মানুষকে। যা প্রচুর মানসিক চাপ বাড়ায় এবং অনেকেই আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন।

সাউথ কোরিয়ার অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা বলছে ২০১৭ সালে প্রতিটি মানুষ গড়ে ২০০০ ঘণ্টারও বেশি কাজ করেছেন।

ব্যতিক্রমী এই কারাগারের সহপ্রতিষ্ঠা নজি হিয়াং বলেন ,নকল এই কারাগারের পরিকল্পনা তিনি তার স্বামীর কাছ থেকে পেয়েছিলেন। তার স্বামী সপ্তাহে প্রায় একশ ঘন্টা কাজ করতেন।

জি হিয়াং বলেছেন, মানুষ এটাকে কারাগার মনে করেনা, এখানে কিছুদিন কাটিয়ে মুক্তি লাভ করার পর ব্যস্ত জীবনটাকেই কারাগার মনে করেন। গত জুলাইয়ে কর্মীদের সুবিধা দিতে সপ্তাহে ৬৪ ঘন্টার বদলে ৫১ ঘন্টা কাজের আইন জারি করেছে দেশটির সরকার।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close