web analytics
Economy

ব্যাংক সমূহের খেলাপি ঋণের বৃদ্ধি

বাংলাদেশে ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রত্যেক প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ বাড়ে তাই এবারও বেড়েছে, অন্যদিকে ব্যাংক সমূহের প্রধান নির্বাহীগণ বলেছেন ঋণ আদায়ে নিয়মিত তাগাদা দেওয়া হচ্ছে, খুব তাড়াতাড়ি তা কমে আসবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে ২০০৯ সালে মন্দ ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার  ৪৮১ কোটি টাকা যা গত বছরের শেষ পর্যন্ত বেড়ে দাড়িয়েছে ৯৯ হাজার ৩৭০ কোটি টাকায়। এর অর্থ গত ১০ বছরে দেশের ব্যাংক সমূহে খেলাপী ঋণ বেড়েছে সাড়ে ৪ গুণ। অন্যদিকে দীর্ঘদিন আদায় করতে না পারা ঋণগুলোকে ব্যাংক সমূহ অবলোপন করে থাকে যার পরিমাণ প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। খেলাপি ঋণের সাথে এই অবলোপন করা মন্দ ঋণ যদি যুক্ত করা যায় তাহলে এর পরিমাণ হবে ১ লক্ষ ৩৪ হাজার কোটি টাকা যা সত্যিই উদ্বেকজনক। চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনসহ খন্দকার ইব্রাহিম খালেদ ব্যাংক খাতের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেছেন তার মতে বি.এন.পি-র বড় ব্যর্থতা ছিল সন্ত্রাস দমন করতে না পারা।

খন্দকার ইব্রাহিম বলেন সরকারী ব্যাংক গুলোর সঠিক তদারকির সম্পূর্ন ক্ষমতা বাংলাদেশ ব্যাংককে দেওয়া হয়নি ফলে দুর্নীতির পথ প্রসস্থ হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকেরও দূর্বলতা আছে, তারা সাহসই করতে পারছে না। মূলত খেলাপী যে চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে প্রকৃত চিত্র আরও ভয়াবহ। এই সময়ের মধ্যে দেশের ব্যাংক খাতের মন্দ ঋণ বাড়ার অন্যতম কারণ সোনালী, বেসিক, ফারমার্স ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতি, জনতা ব্যাংকের অ্যানয়নটেক্স গ্রুপের ঋণ কেলেঙ্কারী দায়ী বলে ব্যাংক খাত সুত্রগুলো মনে করে। তাদের মতে অগ্রণী ও রুপালী ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির কারণেও এই হার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

অন্যদিকে গত ১০ বছরে আওয়ামী লেিগর বড় বর্থতা ব্যাংক খাতের অরাজকতা। এসব দূর করতে অর্থমন্ত্রীর তেমন  কোন পদক্ষেপ ছিলনা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান মতে, গত ডিসেম্বর পূর্ব পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর ঋণ বেড়েছে ৮ লক্ষ ৬৮ হাজার ৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপী ঋণের পরিমাণ ৯৯ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা যা জুনের চেয়ে ১০ হাজার ৩০ কোটি টাকা বেশী। ২০১৭ সালের শেষ থেকে ধরলে গত ৯-১০ মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২৫ হাজার ৬৭ কোটি টাকা।

শুধুমাত্র রাষ্ট্রমালিকানাধীন ছয় ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাড়িঁয়েছে ৪৮ হাজার ৮০ কোটি টাকা যা ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের ৩১.২৩ শতাংশ, এই হার গত জুনে ছিল ২৮.২৪ শতাংশ। এর মধ্যে জনতা ব্যাংকের অ্যাননটেক্স গ্র“পের ঋণ কেলেঙ্কারী বেড়ে দাড়িয়েছে সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বে-সরকারী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাড়িয়েছে ৪৩ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা যা ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের ৬.৫৬ শতাংশ, এই হার গত জুনে ছিল ৬.০০ শতাংশ। দুই বিশেষায়িত ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাড়িয়েছে ২১.৬৮ শতাংশ। খেলাপি ঋণের দিক থেকে বিদেশী ব্যাংকগুলোও পিছিয়ে নেই, তাদের খেলাফি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাড়িয়েছে ৭.০০ শতাংশ।

বি,আই,বি,এম (বাংলাদেশ ইনিস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট)-এর সাবেক মহা পরিচালক মইনুল ইসলাম খেলাপি ঋণ নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছেন। তার মতে খেলাপি ঋণ আদায় করতে হলে কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করতে হবে, ঋণ খেলাপিদের দেশের ভেতরেও এবং বাইরের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে হবে।তবে এটা নির্ভর করে ক্ষমতাসীন দলের সদিচ্ছার উপর। কেননা অনেক ক্ষেত্রে রাজনীতিবিদ ও বড় বড় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ব্যবসায়ীরা ঋণ খেলাপি হয়ে থাকেন। তাঁরা কখনো মন্দ ঋণ পরিশোধ করেন না বরং সেই টাকা বিদেশে পাচার করে থাকেন।

ব্যাংকগুলো এই সব বড় অংকের টাকা তুলতে ব্যর্থ হচ্ছে, এরই সাথে প্রতি বছর শেয়ার বাজারের অজুহাতে বিবিধ ছাড় নিচ্ছে। ফলে ব্যাংক সমূহের প্রকৃত মন্দ ঋণের চিত্র ফুটে উঠছে না। মন্দ ঋণ একটা ব্যাংকের জন্য ক্ষতির কারণ, তাই এখনি যদি এর লাগাম টেনে ধরা না যায় তাহলে ব্যাংক খাত বড় ধরনের সমস্যায় পড়বে।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close