web analytics
Technology

খুব শিগগির আসছে উবারের উড়ন্ত ট্যাক্সি

প্রথমবারের মতো আকাশে উড়লো বোয়িং এর তৈরি একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ যাত্রীবাহী যান। বুধবার একথা জানিয়েছে, শিকাগো ভিত্তিক উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।
আগের দিন ভার্জিনিয়ার ম্যানসাসে ৩০ ফুট লম্বা এবং ২৮ ফুট চওড়া বিদ্যুৎ চালিত এই যানটি সফলভাবে আকাশে ওঠানামা করে। এর ফলে উবারের স্বয়ংসম্পূর্ণ উড়ন্ত ট্যাক্সি সার্ভিস উবার এয়ার চালু পরিকল্পনা আরেক ধাপ এগিয়ে গেল। আগামী দুই বছরের মধ্যে এই সেবা চালু করার ঘোষণা দিয়েছে উবার।

উবারের সিইও দারা খস্রু শাহি জানান, তাদের উড়ন্ত ট্যাক্সি খাড়াভাবে উঠানামা করবে সেই লক্ষ্যে কাজ করছেন তারা। তিনি বলেছেন, এই মডেলের এয়ার ট্যাক্সি ভবিষ্যতের পরিবহন নিয়ে তাদের পরিকল্পনা রয়েছে। যাত্রীরা তাদের ফোনের অ্যাপ ব্যবহার করে উবারের এয়ার ট্যাক্সি ডেকে ছাদ থেকে ওঠানামা করতে পারবেন।

খসরুশাহি জানান, সাধারন মানুষ যাতে যানজট এরিয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে বেশি দূরত্বে যাতায়াত করতে পারে সে জন্য এয়ার ট্যাক্সির একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলবেন উবার কর্তৃপক্ষ। সেবাটি সত্যিই সমাজের উপযোগী হবে বলে মনে করছেন উবারের চিফ প্রডাক্ট অফিসার জেফ হোল্ডেন। এক ধরনের স্ট্যাক রোটারের সাহায্যে তাদের এয়ার ট্যাক্সি হেলিকপ্টার এর মতই আবর্তিত হয়ে আকাশে উঠবে বলে জানান হোল্ডেন। সঠিক উচ্চতায় উঠার পর এই রোটার তাদের গতি সঞ্চার করবে আর পাখাগুলোর মাধ্যমে শূন্যে ভাসবে।

হোল্ডেন জানান, সবই এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে গবেষণালব্ধ, পরীক্ষা নিরিক্ষা চলছে। এই আকাশ যানটিতে একগুচ্ছ ছোট প্রোপেলার থাকবে, চলবে বিদ্যুতের সাহায্যে ফলে এতে শব্দ কম হবে দক্ষতা বেশি হবে এবং খরচ হবে সাশ্রয়ী। হেলিকপ্টারে এসব বৈশিষ্ট্য নাই। প্রথমে পাইলট প্রকল্প হিসেবে চালু করলেও উড়ন্ত ট্যাক্সির চূড়ান্ত লক্ষ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া। উবার বলছে, লাভজনক করার জন্য এই কর্মসূচিকে নির্দিষ্ট বাজারের বাইরে নিয়ে যেতে হবে।

দারা খসরুশাহি বলছেন, প্রযুক্তিটির অন্যতম মূল লক্ষ্য হচ্ছে প্রতিটি যানে ৪ জন করে যাত্রী নিয়ে সহজে গন্তব্যে পৌঁছানো এবং রাইডের খরচ কমানো। উবার বলতে যা বোঝায় সেই গনবাজার এবং অংশীদারিত্বের মাধ্যমেই এই সেবাকে সাধারণ মানুষের উপযোগী করা হবে। গত আগস্টে সংকটে পরা একটি কোম্পানির দায়িত্ব নেন খসরুশাহি তিনি ট্রাভিস কালানিক এর স্থলাভিষিক্ত হয়ে আট বছরের পুরনো এই কোম্পানিকে নতুন উদ্ভাবনী শক্তি যোগাচ্ছেন যারা এখনও লাভজনক হয় নাই। গত বছরেই তাদের লোকসান হয়েছে সাড়ে চার বিলিয়ন ডলার। এ অবস্থায় কেন এমন উচ্চাভিলাষী প্রকল্প?

জবাবে খসরুশাহি বলেছেন, উচ্চাভিলাষের মাধ্যমে এই কোম্পানির জন্ম। যেসব কারণে এই কোম্পানি এত বড় হয়েছে তার একটি হলো তারা বড় বড় বাজি ধরে থাকেন। এটা এই কোম্পানির সংস্কৃতির অংশ। উবার এয়ার তেমনি একটি বড় বাজি যা ভবিষ্যতের শহরগুলোর প্রয়োজন মেটাবে বলে মনে করছেন তারা।

উবার যখন এভাবে ভবিষ্যতের দিকে নজর দিচ্ছে তখন অতীতের একটি সমস্যা এখনো তাদের তাড়া করছে। গত বছর মার্চে উবারের একটি স্বচালিত গাড়ির দুর্ঘটনায় এক পথচারী মারা যায়। কোম্পানির সিইও বলছেন, কোনো বস্তুর সামনে এলে স্বচালিত গাড়ি কি করবে সেটা যেই সফটওয়্যার এর মাধ্যমে ঠিক করা হয় তার কারণেই হয়তো ওই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

খসরুশাহি জানান, কোম্পানির কর্মপদ্ধতি, প্রশিক্ষণ, সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যারসহ সামগ্রিক বিষয়ে আগাগোড়া নিরীক্ষণ করছেন তিনি। সিইও বলেছেন, দুর্ঘটনার কারণে তাঁরা স্বচালিত গাড়ি বন্ধ করে দিবেন না বরং এমন গাড়ি আবারও রাস্তায় নামাতে চান। তবে অবশ্যই নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

এই কোম্পানি তার ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টাও করছে। গত বছর তাদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির কর্পোরেট সংস্কৃতির খবর বের হওয়ার পর অসংখ্য মামলা হয় এবং নিজেদের তদন্তের পর তখনকার সিইও ট্রাভিস কালানিক পদত্যাগ করেন।

বর্তমান সিইও বলেছেন, অতীতে যা ঘটেছে তা সাংঘাতিক ভুল ও খুবই অপ্রীতিকর। কিন্তু কোম্পানির নিচ থেকে উপর সবটাই বদলে যাচ্ছে এবং তা চলতে থাকবে। উবারে প্রধান নির্বাহী বলছেন, নারী কর্মীরা যদি নিরাপদ ও গর্ববোধ না করেন তাহলে তো খেলাই শেষ। তারা চান প্রতিটি কর্মীই যেন নিরাপদ বোধ করেন এবং এটা নিশ্চিত করতে না পারলে কোম্পানি ব্যর্থ হয়ে যাবে যেটা তারা চান না। কেবল অতীতের ভুল শোধরানোই না, কোম্পানির ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির জন্য কাজ করছেন সি ই ও খসরুশাহী। এর মধ্যে আছে এবার এয়ার চালু করা। তিনি মনে করেন এসব লক্ষ্য অর্জনে সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে নিতে হলে আগ্রাসী লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করতে হবে।

২০২০ সালের মধ্যে উড়ন্ত টেক্সি চালু করতে চায় উবার কর্তৃপক্ষ। আকাশে নিরাপদ চলাচল এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধের প্রযুক্তি আবিষ্কার এর জন্য নাসার সাথে চুক্তি করেছে উবার। যে দুটি শহরে প্রথম উবারের উড়ন্ত ট্যাক্সি সেবা চালু হবে, সে দুটি শহর হচ্ছে ডালাস ও লস অ্যাঞ্জেলেস।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close