web analytics
international

ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সম্মান দেখাল ইরানের বিক্ষোভকারীরা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পতাকার ওপর দিয়ে হেঁটে যেতে অস্বীকার করেছেন ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা। এদিকে প্রতিবাদকারীদের হত্যা না করতে হুশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

রোববার দেশটির শাহেদ বাহশাতি বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা ইচ্ছাকৃতভাবেই তারা ও ডোরা (মার্কিন পতাকা) এবং ডেভিডের তারা (ইসরাইলি পতাকা) পায়ে না মাড়িয়ে একপাশ দিয়ে চলে গেছেন।

ব্রিটেনের ডেইলি মেইলের খবরে, এটাকে আবিশ্বাস্য মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দখলদার ইসরাইলের প্রতি অসম্মান জানাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে দুই দেশের পতাকা এঁকে রেখেছিল ইরানি কর্তৃপক্ষ।

এর আগে ২০১৬ সালে এই দুই বৈরী দেশের পতাকার ওপর দিয়ে না হেঁটে এড়িয়ে গিয়েছিলেন ইরানি অধ্যাপক সাদেগ জিবাকালাম। তিনি বলেন, ওই দেশগুলোর প্রতি অসম্মানের নিদর্শন হচ্ছে এটা। মাটিতে তাদের পতাকা রেখে তার ওপর দিয়ে হেঁটে যাওয়া ভুল।

তেহরানে সাবেক মার্কিন দূতাবাসের কাছেই আমির কবির প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী জড়ো হন। ভুলবশত ইউক্রেনীয় যাত্রীবাহী বিমানে গুলি করে বিধ্বস্ত করায় সরকার ও সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তারা।

এক টুইটবার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানি নেতাদের বলছি, বিক্ষোভকারীদের হত্যা করবেন না। ইতিমধ্যে কয়েক হাজারকে হত্যা ও কারাবন্দি করেছেন আপনারা। বিশ্বের নজরে রয়েছেন।

তেহরানের রাস্তায় হাজার হাজার লোক নেমে আসলে তিনি বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র পর্যবেক্ষণ করছে। ইন্টারনেট ফিরিয়ে দিন। সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে দিন।

এর আগে শনিবার বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আমরা আপনাদের সাহসে উৎসাহিত হয়েছি।

এই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট বলেন, সাহসী ও ধৈর্যশীল ইরানি জনগণ: প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার মেয়াদ শুরুর পর থেকে আমি আপনাদের সমর্থন দিয়ে আসছি। আমার প্রশাসন অব্যাহতভাবে আপনাদের পাশে থাকবে। নিবিড়ভাবে আপনাদের বিক্ষোভ আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। আর আপনাদের সাহসে অনুপ্রাণিত হচ্ছি।

ইরানি সরকারেক উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ইরানি জনগণের চলমান বিক্ষোভে সরেজমিনে থেকে ঘটনার পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন তৈরি করতে মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোকে অবশ্যই অনুমোদন দিতে হবে দেশটির সরকারকে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে সেখানে আরেকটি গণহত্যা হতে পারে না কিংবা ইন্টারনেটও বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে না। বিশ্ব তাদের পর্যবেক্ষণ করছে।

তেহরানে ইউক্রেনের একটি যাত্রীবাহী বিমানে ভুলবশত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালে ১৭৬ যাত্রীর সবাই নিহত হন। নিহদের মধ্যে অধিকাংশই ইরানি ও ইরানি বংশোদ্ভূত কানাডীয় নাগরিক।

প্রথমে যন্ত্রিক ত্রুটিতে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার কথা বললেও পরে মানবীয় ভুলে সেটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে বলে দাবি করে ইরান সরকার।

গত ৩ জানুয়ারি বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন থেকে রকেট হামলা চালিয়ে ইরানের প্রভাবশালী জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করে মার্কিন বাহিনী।

ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই তাকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন। আর হত্যা অভিযানে অবৈধ ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইল সহায়তা করেছে বলে খবরে বলা হয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, সোলাইমানি হত্যা অভিযান সামনে রেখে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সঙ্গে কথা বলেছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু।

যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের মধ্যে একমাত্র এই ইহুদি রাষ্ট্রটিই এই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে জানতো বলে খবরে দাবি করা হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close