web analytics
international

ইরানের ব্যাপারে হঠাৎ কেন ইউটার্ন নিল ইউরোপ?

আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের কথা বলে এলেও ইরানের ব্যাপারে হঠাৎই ইউটার্ন নিল ইউরোপ। কথা বলছে যুক্তরাষ্ট্রের সুরে। তবে ইউরোপের প্রভাবশালী তিনটি দেশ যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি অভিযোগ করেছে, ইরান পরমাণু ওয়ারহেড বহনে সক্ষম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বানাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসকে লেখা এক চিঠিতে অভিযোগ করে এ তিন দেশ।

পরমাণু চুক্তি নিয়ে নয়া এ মতপার্থক্য মধ্যেই ইরানের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ নিয়ে ফের উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে বলেছে, বিক্ষোভ ১০০ বা ২০০ নয়, ইরানি কর্তৃপক্ষ এক হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করে থাকতে পারে।

সেই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে আরও সেনা পাঠানোর হুমকিও দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে ইউরোপের দেশগুলো যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে একজোট হচ্ছে তা তাদের সর্বশেষ পদক্ষেপেই স্পষ্ট।ফলে পরমাণুবাহী ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির অভিযোগ ‘মনগড়া ও ভিত্তিহীন’ বলে নাকচ করে দিয়েছে ইরান। এদিকে ভঙ্গুর ইরান পরমাণু চুক্তি নিয়ে শুক্রবার ফের ভিয়েনায় আলোচনায় বসেছে চুক্তির অবশিষ্ট পক্ষগুলো। আলোচনায় অংশ নিয়েছেন স্বাক্ষরকারী দেশ যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, চীন ও রাশিয়া এবং ইরানের কূটনীতিকরা।

২০১৫ সালের জুনে ভিয়েনায় স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও পারমাণু অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্র“তি দেয় তেহরান। পূর্বসূরি ওবামা আমলে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিকে ‘ক্ষয়িষ্ণু ও পচনশীল’ আখ্যা দিয়ে গত বছরের মে মাসে তা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং একই বছরের নভেম্বর থেকে তেহরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করে ওয়াশিংটন। ইউরোপীয় দেশগুলো চুক্তি বাস্তবায়নের কথা মুখে বললেও কার্যত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি তারা। উপরন্তু ‘বিরোধ মীমাংসা’র নামে সময়ক্ষেপণ করছে।

চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশগুলো তাদের প্রতিশ্র“তি পালন না করায় চুক্তি থেকে পর্যায়ক্রমে সরে আসছে ইরান। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী গত বছরের মে মাস থেকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণসহ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে ইরান। দেশটির নেতারা বলছেন, চুক্তির শর্তের অধীনেই যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়া ও নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের পাল্টা এসব পদক্ষেপ নেয়ার অধিকার তাদের রয়েছে। শুক্রবার ভিয়েনায় বৈঠকে বসা জাতিসংঘে একটি চিঠি পাঠায় ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানি। তবে তারা দাবি করে, ‘পরমাণুবাহী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে ইরান। এটা জাতিসংঘে পাস হওয়া ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।’

চিঠিতে বলা হয়েছে, ইরানের পরমাণু ওয়ারহেড বহনে সক্ষম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করাই ২০১৫ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাস হওয়া প্রস্তাবের লঙ্ঘন। ওই প্রস্তাবে পরমাণুবাহী কোনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি না করার জন্য ইরানের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। গত ২২ এপ্রিলে সাহাব-৩ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায় তেহরান। ওই তিন দেশের দাবি, ওই ক্ষেপণাস্ত্রটি পরমাণু ওয়ারহেড বহনে সক্ষম। তবে এটাকে ‘মিথ্যা ও মনগড়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ বলেছেন, ‘পারমাণবিক চুক্তির ন্যূনতম বাধ্যবাধতা পূরণ করতে না পারায় তাদের অক্ষমতা ঢাকতে ডাহা মিথ্যা অভিযোগ এনে চিঠি দিয়েছে ইউরোপের শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো।’

ইউরোপের এই তিনটি দেশের অভিযোগের আগে ইরান পরমাণু বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণে কাজ করছে বলে দাবি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।ফলে সবসময় ইরান এ ধরনের অভিযোগ নাকচ করে এসেছে। দেশটি জানিয়েছে, তেহরানের হাতে কোনো পরমাণু অস্ত্র নেই এবং এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র বানানোর চিন্তাও করছে না তারা। ইরানের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিতান্তই তাদের অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষার বিষয় এবং এ নিয়ে কারও সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হবে না। তবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে আলোচনা হতে পারে বলে সর্বশেষ এক বিবৃতিতে জানান ইরানি প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close