web analytics
Lifestyle

আগুনে দগ্ধ হলে যা করণীয়

বেশিরভাগ মানুষই জানেন না পুড়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে কী করলে আরাম মিলবে। আর তাই বিভিন্ন ভ্রান্ত ধারনাবশত এটা ওটা করে পোড়ার ক্ষত আরো বাড়িয়ে ফেলেন। পুড়ে যাওয়ার আছে বেশ কিছু ঘরোয়া প্রতিকার যেগুলো নিমিষেই আরাম দেয় ও জ্বালা পোড়া ভাব কমিয়ে দেয়। আগুন, গরম পানি, গরম তেল, বিদ্যুৎ, রাসায়নিক পদার্থ, এসিড, ক্ষার, বোমা বিস্ফোরণ, বিকিরণ ইত্যাদি নানা কারণে পোড়াজনিত আঘাত বা বার্ন ইনজুরি হতে পারে। আমাদের দেশে গরম পানি এবং আগুনে পুড়ে যাওয়া- এ দুটোর পরিমাণ বেশি। শীতকাল এলে এর  প্রকোপটা বেড়ে যায়। এ ছাড়াও রয়েছে ইলেকট্রিক বার্ন (ইলেক্ট্রিক শকের কারণে হয়) এবং  কেমিক্যাল বার্ন (এসিড, ক্ষার দিয়ে হয়)।

চিকিৎসা:
আগুনে পোড়া রোগীকে প্রথমেই আগুনের কাছ থেকে সরিয়ে আনুন। এবার শরীরের কাপড় এবং গয়না খুলে ফেলুন। তারপর দ্রুত টিউবওয়েল কিংবা পানির ট্যাপের নিচে ৩০মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা আক্রান্ত স্থানে পানি দিন। আক্রান্ত অংশ পরিষ্কার কাপড় বা গজ ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢেকে একটু উঁচুতে রাখুন। আক্রান্ত ব্যক্তির জ্ঞান থাকলে পানিতে একটু লবণ মিশিয়ে শরবত, স্যালাইন বা ডাবের পানি এমনকি সাধারণ পানিও পর্যাপ্ত পরিমাণে পান করতে দিন।

মধু হলো প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক। তাই পোড়া যায়গায় মধু লাগালে জীবাণু নিধন করে ইনফেকশনের ঝুঁকি কমিয়ে দেয় ও দ্রুত শুকাতে সহায়তা করে। একটি পরিষ্কার পাতলা সুতি কাপড় বা গজে মধু লাগিয়ে নিন। এবার পোড়া যায়গায় মধু লাগানো কাপড়টি বেঁধে রাখুন। দিনে ৩ থেকে ৪ বার কাপড়টা বদলে দিন। এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে পোড়ার ক্ষত দ্রুত ভালো হবে এবং দাগ হবে না।

অ্যালোভেরার আছে ব্যাথা কমানোর গুণ। পোড়া জায়গায় অ্যালোভেরা লাগিয়ে দিলে কিছুক্ষণের মধ্যেই ত্বকে শীতল অনুভূতি পাওয়া যাবে এবং জ্বালা ভাব কমে যাবে। প্রথমে পোড়া জায়গাটা ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। এরপর এক টুকরো অ্যালোভেরার পাতা থেকে তাজা রস বের করে পোড়া স্থানে লাগিয়ে নিন। এভাবে দিনে বেশ কয়েকবার লাগান।

সতর্কতাঃ
আগুনে পুড়ে গেলে অনেকেই ডিম ভেঙে দেয়, কেউ পেস্ট লাগায়। আসলে এগুলোর কোনো ভূমিকাই নেই। এসব জিনিস দিলে সংক্রমণের ঝুঁকি আরো বাড়ে। তাই এগুলো না দেয়াই উত্তম। যেহেতু ডিমে প্রোটিন আছে, তাই ডিম ভেঙে উপরে না দিয়ে বরং খেলে উপকার পাওয়া যাবে।

এ ছাড়াও মনে রাখবেন চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত কোনো মলম বা ক্রিম লাগানো ঠিক না। ফোসকা হলে তা ফুটো করবেন না। পোড়া স্থানে বরফ, তুলা, ডিম, পেস্ট ইত্যাদি লাগাবেন না। পোড়া জায়গায় যেন আঘাত বা ঘষা না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close