Home international আইএস সদস্য শামীমার নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার সঙ্গে উঠে আসছে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ

আইএস সদস্য শামীমার নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার সঙ্গে উঠে আসছে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ

324
0
ছবিঃ সংগৃহীত

আইএসে যোগ দেওয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শামীমা বেগমের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভেদ শামীমার মায়ের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। তবে শামীমার পরিবারের আইনজীবী তাসনিম আকুঞ্জে বলেছেন, ব্রিটিশ সরকারের এমন সিদ্ধান্ত তাঁদের ‘হতাশ’ করেছে। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করতে ‘সব আইনি পথ’ খতিয়ে দেখছেন তাঁরা। শামীমা বেগম ২০১৫ সালে পূর্ব লন্ডন ছেড়ে আইএসে যোগ দেন। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর। গত সপ্তাহে তাঁকে সিরিয়ার একটি শরণার্থীশিবিরে পাওয়া যায়। তিন দিন আগে তিনি একটি ছেলেসন্তানের জন্ম দেন। আরও দুই কিশোরীর সঙ্গে লন্ডন থেকে সিরিয়ায় গিয়েছিলেন শামীমা।

শামীমা ছেলেসন্তানের জন্ম দেন। এর আগেও তিনি দুবার মা হয়েছিলেন। তবে সেই সন্তানেরা বাঁচেনি। তাঁর স্বামী ডাচ্‌ নাগরিক, নিজ ধর্ম ছেড়ে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। দুই সপ্তাহ আগে সিরিয়া যোদ্ধাদের লড়াইয়ে শামীমার স্বামী আত্মসমর্পণ করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এক বিবৃতিতে বলেন যে, শামীমা বেগম একজন বাংলাদেশি নাগরিক নন। তিনি জন্মের মাধ্যমে একজন ব্রিটিশ নাগরিক এবং বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বৈত জাতীয়তার জন্য আবেদন করেননি … বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি পাওয়ার কোনো প্রশ্ন নেই।

গার্ডিয়ানকে দেয়া একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশ সরকার গভীরভাবে উদ্বিগ্ন যে শামিমা বেগম দ্বৈত নাগরিকত্বের ধারক হিসেবে ভুলভাবে চিহ্নিত হয়েছে”। মিডিয়া রিপোর্ট থেকে নাগরিকত্ব অধিকার বাতিল করার ব্রিটেনের উদ্দেশ্য। শামীমা বেগম একজন বাংলাদেশী নাগরিক নন এবং তার দেশে যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্বের বিষয়ে “কোন প্রশ্ন নেই”।

বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শামীমা বলেন, তিনি কখনো আইএসের ‘পোস্টার গার্ল’ বা (প্রচারের জন্য ব্যবহৃত মেয়ে) হতে চাননি। এখন তাঁর একটাই সাধারণ চাওয়া, সন্তানকে যুক্তরাজ্যে বড় করা।

ব্রিটিশ নাগরিকত্ব আইন অনুসারে, একজন ব্যক্তি নাগরিকত্ববঞ্চিত হতে পারে যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মনে করেন যে এটা ‘জনস্বার্থের জন্য সহায়ক’। তবে ওই ব্যক্তি রাষ্ট্রহীন হতে পারবেন না।

শামীমা জানান, তিনি তাঁর বোনের ব্রিটিশ পাসপোর্ট নিয়ে সিরিয়া গিয়েছিলেন। তবে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার পর তাঁদের কাছ থেকে পাসপোর্ট নিয়ে যাওয়া হয়। শামীমাকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বলা হলেও বিবিসির সাক্ষাৎকারে শামীমা বলেছেন, তাঁর বাংলাদেশি পাসপোর্ট নেই এবং তিনি কখনো বাংলাদেশে ছিলেন না।

সন্ত্রাসবিষয়ক আইন পর্যবেক্ষক লর্ড চার্লি বলেছেন, শামীমা বেগমের মা যদি বাংলাদেশি হয়ে থাকেন, তবে বাংলাদেশি আইন অনুসারে শামীমাও বাংলাদেশি।

এদিকে শামীমার নবজাতক ছেলের ব্যাপারে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ বাবা-মায়ের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার আগে সন্তান জন্ম নিলে সেই সন্তানকে ব্রিটিশ নাগরিক বলে বিবেচনা করা হবে। তবে সম্ভাব্য কোনো ঝুঁকির কথা তুলে ধরে সেই শিশুরও নাগরিকত্ব একসময় বাতিল করার ক্ষমতা রয়েছে কর্তৃপক্ষের। মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক প্রধান তত্ত্বাবধায়ক এবং শামীমার পরিবারের বন্ধু ডাল বাবু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠির ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এমন ‘চটজলদি প্রতিক্রিয়ায়’ তাঁরা ‘খুবই অবাক’ হয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘শামীমা কখনো বাংলাদেশে ছিল না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্তকে অবাস্তব মনে হচ্ছে। আমি বুঝতে পারছি না, এটা কীভাবে আইনিভাবে দাঁড়াবে।’

আইএস তাদের নিয়ন্ত্রিত বেশির ভাগ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। তবে ইরাকের সঙ্গে সিরিয়ার সীমান্তে ৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় এক হাজার থেকে দেড় হাজার আইএস জঙ্গি রয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমপিদের জানিয়েছেন, আইএসের সমর্থনে দেশে ছেড়েছেন—এমন দ্বৈত নাগরিকদের ১০০ জনের বেশি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব হারিয়েছেন। গত বছর দুই ব্রিটিশ পুরুষ আইএসের সদস্য অভিযোগে সিরিয়ায় আটক হওয়ার পর তাঁদের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যে আবার ফিরে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করে শামীমা বলেন, সিরিয়ায় যাওয়ার ব্যাপারে তাঁর কোনো দুঃখবোধ নেই। আইএস যোদ্ধারা জিম্মিদের শিরশ্ছেদ করছে—এমন ভিডিওর পাশাপাশি আইএস-প্রদর্শিত ‘সুন্দর জীবন’-এর ভিডিও দেখে তিনি কিছুটি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। তবে আইএস যা করেছে, তার সবকিছুর সঙ্গে তিনি একমত নন। শামীমা বলেন, ‘আমি আসলে ব্রিটিশ মূল্যবোধের পক্ষে কাজ করেছি। আমি যুক্তরাজ্যে ফিরে আসতে চাইছি। যুক্তরাজ্যে আবার বাস করতে চাই, পুনর্বাসিত হতে চাই।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here