Home Lifestyle হার্ট অ্যাটাক হলে প্রাথমিক অবস্থায় করণীয়।

হার্ট অ্যাটাক হলে প্রাথমিক অবস্থায় করণীয়।

163
0
ছবি সংগৃহীত

আমার কাছের কোন মানুষের হার্ট অ্যাটাক হয়ে হৃদস্পন্দন ও শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে গেলে কার্ডিও-পালমোনারি রিসাসিটেশন-সিপিআর পদ্ধতিতে প্রাথমিক পরিচর্যা দিয়ে জীবন বাঁচাতে পারেন । কিন্তু এর পূর্বে আপনাকে জেনে নিতে হবে কিভাবে কার্ডিও-পালমোনারি রিসাসসিটেশন বা সিপিআর দিতে হয় ।

বর্তমান বিশ্বে সবচাইতে বেশি মানুষ মারা যায় হার্ট অ্যাটাক বা হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে। এমনকি হাসপাতালে নেয়ার আগেই মারা যান হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি।

কারো হার্ট অ্যাটাক হয়েছে কি না তা বোঝার উপায় কি?

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আফজালুর রহমান বলেন,‘হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক লক্ষণ হল বুকে প্রচন্ড ব্যাথা হওয়া। বুক চেপে ধরা এবং এ সময় মনে হবে বুকে পাথর চাপা দিচ্ছে।’

হার্ট অ্যাটাকে হৃদস্পন্দন ও শ্বাসপ্রশ্বাদ বন্ধ হয়ে গেলে করণীয় সম্পর্কে ডা. আফজালুর রহমান বলেন, ‘যদি কারও হৃদপিন্ড বন্ধ হয়ে যায় বা শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় তাহলে জরুরি ভিত্তিতে অ্যাম্বুলেন্স কল করতেই হবে। অবশ্যই সঙ্গে সঙ্গে সিপিআর শুরু করতে হবে। তিন মিনিটের মধ্যে এই পদ্ধতি রোগীর ওপর প্রয়োগ করতে হবে। কেননা নয় মিনিট অতিবাহিত হওয়ার পর সিপিআর পদ্ধতি প্রয়োগ করা হলে রোগীর কোনও কাজে আসবে না। হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীর ব্রেন নয় মিনিট পর ডেড হয়ে যায়।’

কিভাবে সিপিআর দিতে হয়?

প্রথমে রোগীকে শোয়াতে হবে। এরপর রোগীর পালস আছে কি না এবং শ্বাস নিচ্ছে কি না তা দেখতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তির একটি হাত প্রসারিত করে অন্য হাতের আঙুল দিয়ে লক তৈরি করতে হবে। হাতের তালুর উঁচু অংশটি বুকের পাজরের নিচের অংশে ঠিক মাঝ বরাবর স্থাপন করতে হবে। তারপর প্রতি সেকেন্ডে ২ বার করে জোরে জোরে চাপ দিতে হবে। অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে দুই হাত যেন ভাজ না হয়। এমন ভাবে চাপ দিতে হবে যেন দেড় থেকে ২ ইঞ্চি দেবে যায়।এভাবে ৩০বার চাপ দেয়ার পর, রোগীর কপাল এবং থুঁতনিতে হাত দিয়ে মুখটি খুলতে হবে।মুখ দিয়ে মুখে জোরে জোরে দুইবার শ্বাস দিতে হবে। পরবর্তীতে আবার সেই একই পদ্ধতি অনুসরণ করে ৩০ বার বুকে চাপ দিয়ে ২ বার শ্বাস দিতে হবে। হাসপাতালে নিতে নিতে এই পদ্ধতি একজন ৫ বার অনুসরণ করবে। পাশে অন্য কেউ থাকলে সেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করে সিপিআর দিতে থাকবে।

ডা. আফজালুর রহমান বলেন, ‘এই পদ্ধতি যেকোনো অবস্থায় মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। তাই প্রতিটি মানুষকে সিপিআর ট্রেনিং নিতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here